স্মার্ট পেশা ঃ সেলস এক্সিকিউটিভ

80094_1

স্মার্ট পেশা ঃ সেলস এক্সিকিউটিভ

ব্যবসা পরিচালনার জন্য সেলস এক্সিকিউটিভ একটি গুরম্নত্বপূর্ণ পদ৷ এ পদে যারা কাজ করেন, তারা ভোক্তার সাথে বিক্রেতা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক-স্থাপন করেন৷ তাদের মাধ্যমেই ক্রেতারা ভোগ্যপণ্যের সাথে পরিচিত হন৷ বর্তমানে তরম্নণ-তরম্নণী সকলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ পেশায় আসছেন৷ দেশের ছোট বড় কোম্পানি, জুয়েলারি, কসমেটিকস, ফ্যাশন হাউস, ওষুধ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেলস এক্সিকিউটিভরা মর্যাদার সাথে চাকরি করছেন৷ লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করতেও শিৰিত তরম্নণ-তরম্নণীরা পার্টটাইম জব হিসেবে এ পদকে বেছে নিচ্ছেন৷ প্রিয় পাঠক তরম্নণকক্তের পৰ থেকে আমরা কথা বলেছি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেশ ক’জন সেলস এক্সিকিউটিভের সাথে৷ আসুন, এবার তাদের কথা শুনি তাদের জবানিতেই৷

মোসাদ্দেক হোসেন সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন আমি দীর্ঘদিন থেকে একটি বহুজাতিক জুতার কোম্পানিতে কাজ করছি৷ যার নাম অ্যাপেক্স গ্যালারি৷ সেখানে আমার দায়িত্ব ক্রেতাদের সাথে কথা বলা৷ তাদেরকে ম্যানেজ করা৷ এসব প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সুবিধা ভালো৷ অনায়াসেই ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করা যায়৷ এখানে বেতন ছাড়াও সেলসের ওপর আমরা কমিশন পেয়ে থাকি৷ এসব প্রতিষ্ঠানে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে লোক নিয়োগ করা হয়৷ নূন্যতম যোগ্যতা ডিগ্রি পাস৷ তবে এ পেশায় আসতে হলে তাকে অবশ্যই ক্রেতা ম্যানেজের ৰমতা অর্জন করতে হবে৷ সেই সাথে তাকে হতে হবে স্মার্ট, বিনয়ী ও হাস্যোজ্জ্বল৷ নিজের চেষ্টায় আজ আমি এ পেশায় একজন সফল মানুষ৷

মামুনুর রহমান বললেন, আমি প্রায় আড়াই বছর থেকে পেপসি কোম্পানিতে চাকরি করছি৷ আমাকে সকাল ন’টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যনত্ম ডিউটি করতে হয়৷ সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে আমাকে ক্রেতাদের সাথে কথা বলা, অর্ডার নেয়া এবং মাল ঠিকভাবে পৌঁছালো কিনা তা তদারকি করতে হয়৷ আমি বিএ পাস করে ঢাকায় আসি৷ পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখেই দরখাসত্ম করলে কোম্পানি আমাকে এ কাজের জন্য নিয়োগ দেয়৷ এ প্রতিষ্ঠান থেকে আমি মাসে সব মিলে সাড়ে ৫ হাজার টাকা আয় করি৷

রবিউল ইসলাম বললেন, প্রায় ৪ বছর থেকে আমি মেডিসিনের দোকানে সেলসের চাকরি করছি৷ ফুলটাইম দায়িত্ব পালন করে মাসে আমি সাড়ে ৬ হাজার টাকা আয় করি৷ আমি আগামী বছর প্রাইভেটে ডিগ্রি পরীৰা দিব৷ অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে আমি মেডিসিনের দোকানে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি৷

ফেরদৌসী রহমান বললেন, একটি ইলেকট্রিক কোম্পানির শো-রম্নমে ৩ বছর থেকে আমি সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করছি৷ পাশাপাশি আমাকে একাউন্টসের কাজও করতে হয়৷ কাস্টমার ম্যানেজ করাই আমার মূল দায়িত্ব৷ এসব প্রতিষ্ঠানে মেয়েরা চাকরি করলে অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে৷ কোম্পানির লোকজন আমাকে ও অন্য মেয়েদের খুবই সম্মান করে৷ এ প্রতিষ্ঠান থেকে আমি মাসে ৮ হাজার টাকা স্যালারি ড্র করি৷ আমি এমএ শেষ করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ চাকরিটা পেয়েছি৷

সাইদা আকতার বললেন, একটি কসমেটিকসের দোকানে আমি ৮ মাস থেকে পার্টটাইম চাকরি করছি৷ সপ্তাহে ৩ দিন সেখানে কাজ করি৷ ওই প্রতিষ্ঠান আমাকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা স্যালারি পে করে৷ এতে আমার নিজের হাত খরচ চলে যায়৷ আমি অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী৷ শিৰাথর্ীদের পার্টটাইম জব করতে হলে এসব প্রতিষ্ঠানেই করা ভালো৷ এখানে অনেক সুবিধা ভোগ করা যায়৷

হাশেম মিয়া বললেন, ৩ বছর থেকে আমি গালামালের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করছি৷ থাকা ও খাওয়া মালিকই দেয়৷ আর মাসে বেতন পাই ৩ হাজার টাকা৷ লেখাপড়া করি নাই বলে বেশি বেতনের চাকরি পাইনি৷ বেতন বাড়ানোর জন্য মালিককে এই মাসে বলেছি৷ তিনি সামনের মাস থেকে ৫শ টাকা বেশি করে বেতন দিবেন বলে জানিয়েছেন৷

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.