পারদ: তরল ধাতব পদার্থ

সাধারণ তাপমাত্রায় সব ধাতব পদার্থ কঠিন অবস্থায় বিরাজ করে৷ কিন্তু এসব পদার্থের মধ্যে ব্যতিক্রম হলো পারদ৷ পারদ ধাতব পদার্থ হলেও ঘরের তাপমাত্রায় এটি তরল অবস্থায় থাকে৷ এটির আরেক নাম হলো কুইক-সিলভার (লৈধডপ ওধফশণর)৷ যদিও সাধারণ অবস্থায় তরল তবুও এর ধর্মাবলম্বী; কিন্তু ধাতব অন্যান্য পদার্থের মতোই৷ পারদ হলো তাপ ও বিদু্যত্‍ সুপরিবাহী৷ ইংরেজিতে একে বলা হয় গুড কন্ডাক্টর (ঐমমঢ উমভঢলর্ডমর)৷ শূন্য ডিগ্রি থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা পর্যনত্ম এটি জমে যায়৷ আবার ৩৫৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় এটি ফুটতে থাকে৷ কাঁচের গায়ের পারদ কখনো লেগে থাকে না৷ রূপার মতোই জ্বলজ্বল করতে থাকে৷ পারদ পানির চেয়ে ১৩.৬ গুণ ভারী৷ পারদের এমন অনুপম ধর্মই আমাদের কাছে তাকে প্রয়োজনীয় করে তুলেছে৷ থার্মোমিটার ও ব্যারোমিটারে পারদ ব্যবহৃত হয়৷ এমনিতে পারদ খুব বিষাক্ত এক পদার্থ, তারপরেও এটি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও জীবানুনাশক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়৷ সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর উত্‍পাদিত পারদের প্রায় তিন ভাগের এক অংশ ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে৷

প্রকৃতিতে পারদকে মিশ্র অবস্থায় পাওয়া যায়৷ হিঙ্গুল নামের এক ধরনের খনিজ হলো এর প্রধান উত্‍স৷ এই খনিজ দেখতে লাল এবং নানা ধরনের পাথর থেকে তা সংগ্রহ করতে হয়৷ প্রাচীনকালে এই হিঙ্গুল দিয়ে লাল রং তৈরি করা হতো৷ মধ্যযুগের আলকেমিস্টরা যখন কৃত্রিম উপায়ে সোনা তৈরির চেষ্টা করছিলো তখন তাদের সব পরীৰা-নিরীৰাতেই পারদ ব্যবহার করতো৷ বর্তমানে নানারকম রঞ্জক দ্রব্য, কস্টিক সোডা, ক্লোরিন এবং বৈদু্যতিক যন্ত্রাদি তৈরিতে পারদ ব্যবহৃত হয়৷ দৰিণ এশিয়া অঞ্চলের কোন কোন ধর্মের মেয়েরা যে সিঁদুর ব্যবহার করে তা এই পারদেরই একটি যৌগিক পদার্থের নাম৷

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.