পাহাড়-পর্বত সৃষ্টির রহস্য

পৃথিবীর অভ্যনত্মরভাগে যে ভূ-আলোড়ন বা ভূ-আন্দোলন হয় এর ফলেই পাহাড়-পর্বত সৃষ্টি হয়৷ বিশিষ্ট ভূগোলবিদ তাঁর “চলমান মহাদেশ তত্ত্বে বলেছেন, গিরিজনি আন্দোলনের ফলে মহাদেশীয় ভূভাগ দুই দিক থেকে মহাসাগরীয় ভূভাগকে চাপ প্রয়োগ করে, এতে মহাদেশীয় ভূভাগ শক্ত ও মহাসাগরীয় ভূভাগ নরম বিধায় সমুদ্রতলের সঞ্চিত পলিমাটিগুলো ভাঁজের সৃষ্টি করে, চাপ যত বেশী পড়ে ভাঁজ তত উঁচু হয়৷ উঁচু ভাঁজকে পাহাড়-পর্বত বলে আর নিচু ভাঁজকে উপত্যকা বা নদী বলে৷ এতে করে পুরনো সাগর পরিণত হয় পাহাড়-পর্বতে৷ ওয়েগনার সাহেবের এ তত্ত্বকে বলে পাত সঞ্চারণ মতবাদ৷ এতে বলা হয়, পৃথিবীতে বড় ও ছোট মিলে বেশ কয়েকটি ভূপাত রয়েছে৷ এগুলো বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় চলাচল করার ফলে পাহাড়-পর্বতের সৃষ্টি হয়৷

ভূপাত গুলো যখন পরস্পর মুখোমুখি হয় তখন সমুদ্র তলদেশের সঞ্চিত পলিসত্মর নরম বলে কাগজের মত ভাঁজ সৃষ্টি করে ঊধর্্বভাঁজে পর্বত৷ এ ভাঁজ যত বেশি উঁচু হবে পর্বতের উচ্চতা তত বেশি হবে৷ হিমালয় পর্বতের সৃষ্টিরহস্য সম্পর্কে আলোচনা করলে দেখা যায় এটি ছিল একসময় টেথিস সাগর৷ ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল ও দৰিণ-পশ্চিম অঞ্চল থেকে দুটি শক্ত ভূপাত পরস্পর মুখোমুখি অগ্রসর হবার ফলে টেথিস সাগরের তলদেশে সঞ্চিত পাললিক শিলাসত্মর কাগজের মত ভাঁজ পড়ে ঊধর্্বভাঁজে হিমালয় পর্বত সৃষ্টি হয় এবং নিম্নভাঁজে সিন্ধু-গঙ্গাসহ অনেক নদী সৃষ্টি হয়৷ শুধু হিমালয় পর্বতই নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশের বড় বড় পর্বতগুলো এভাবে ভাঁজের ফলে সৃষ্টি হয়৷ ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দৰিণ আমেরিকার আন্দিজ প্রভৃতি এভাবেই সৃষ্টি হয়৷

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.