মরক্কোর ইতিহাসে তিন আমলের রাজবন্দি

অনেকের মাঝে অন্যতম হওয়া সহজ কথা নয়৷ এজন্য গুনতে হয় অশেষ মূল্য৷ কোন কোন সময় জীবন দিয়ে নাম লিখাতে হয় ইতিহাসের পাতায়৷ তেমনি এক বীরপুরম্নষ মোহাম্মদ বাগরিনি৷ মরক্কোর অধিবাসী মোহাম্মদের বয়স বর্তমানে ৭২ বছর৷ স্বাধীনচেতা ও ন্যায়-নীতির প্রতি অবিচল মোহাম্মদের জীবনে ইতিহাস বড়ই করম্নণ৷ তার ভাষায়ঃ ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদ আমার স্বভাবজাত৷ যার সূচনা সেই মাত্র ২৪ বছর বয়সে, সময়টা ১৯৬০৷ এ সময় মরক্কো ছিল ফরাসি উপনিবেশ৷ ফরাসি শাসকের রক্তচৰু উপেৰা করে এ সময় একদিন নেমে পড়ি অত্যাচার-অবিচারের বিরম্নদ্ধাচরণে৷ তারই পরিপ্রেৰিতে একই বছরের ১৭ মার্চ আমি জীবনে প্রথম গ্রেফতার হই৷ আমার উপর চলে অমানুষিক অত্যাচার৷ অত্যাচার-নিপীড়নের মাত্রা দিন-দিনই বেড়েই চলছিল৷ একই সঙ্গে ফরাসি শাসকের অনুগত হওয়ার পরামর্শ ছিল হর-হামেশা৷ কিন্তু কোন কিছুই আমাকে নতিস্বীকার করাতে পারেনি৷ টানা ছয় বছর কারারম্নদ্ধ থাকার পর ১৯৬৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর মুক্ত হই৷ জেল থেকে বের হয়েই অস্ত্র ধরি ফরাসি রয়্যাল আর্মির বিরম্নদ্ধে৷ এক পর্যায়ে আবার গ্রেফতার হয়ে জেলে যাই৷ সেবারের জেল জীবনের অভিজ্ঞতা জীবনেও ভুলবার নয়৷ আগেই পরিচিত ছিলাম বিরম্নদ্ধবাদী হিসাবে৷ এবার সরাসরি অস্ত্র ধরবার অপরাধ৷ তাই জেলের ভেতরে এবার নেমে এলো আগের চেয়ে বিভীষিকাময় নিপীড়ন-নির্যাতন৷ শরীরের প্রতিটি জোড়ায় জোড়ায় আঘাতের চিহ্ন৷ শরীর ও মন দারম্নণ অবসন্ন৷ জীবনের বোঝা বহনে প্রায় অৰম৷ দীর্ঘ কারাজীবন থেকে একদিন মুক্তি জুটলো৷ ততদিনে পাত্তাড়ি গুটিয়েছে ফরাসি শাসক৷ কিন্তু এখানেই শেষ নয়৷ মরক্কোর পরবতর্ী শাসক দ্বিতীয় হাসান আবিভর্ূত হলেন অনেকটা ছায়া ফরাসি শাসকের ভূমিকায়৷ ফরাসি শাসনের বিরম্নদ্ধে যে সব অভিযোগ ছিল-তার ব্যত্যয় ঘটলো না দ্বিতীয় হাসানে বিরম্নদ্ধেও৷ এবার হলাম স্বদেশী শাসকের মুখোমুখি৷ একের পর এক রাজ-বিরোধী আন্দোলনে শরিক৷ তারই মাশুল গুনতে হলো- চার দফা গ্রেফতার হয়ে৷ চললো আগের ধারা মতোই জুলুম নির্যাতন৷ এসময়ই জেলের মধ্যেই হত্যা করা হয় আমার ২৬ জন কমরেডকে৷ এ সময়কার এক বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা করা আমার কাছে দুঃসাধ্য৷ রাজ-বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি এলো৷ বিন্দুমাত্র পিছপা হলাম না৷ একদিন ধরে আনা হলো আমার শাশুড়িকে৷ চোখের সামনে তাকে বিবস্ত্র করা হলো৷ একই সঙ্গে উভয়ের ওপর চললো চাবুক৷ লজ্জা-অপমান সহ্য করতে হলো নীরবে৷ শাশুড়ির মৃতু্য হলো জেলখানার ভেতরেই৷ তারও নিসত্মার মিললো না৷ ১৯৯৯ সালে সিংহাসনে আসীন হন দ্বিতীয় হাসানের পুত্র ষষ্ঠ মোহাম্মদ৷ প্রথমদিকে পিতার পদাংক অনুসরণ করলেও পরবতর্ীতে অনেকটাই নমনীয় হন তিনি৷ তারই পরিপ্রেৰিতে পিতার ভুলের অনেক ঘটনার জন্যই তিনি অনুতপ্ত হন৷ কয়েকদিন আগে ষষ্ঠ মোহাম্মদ বেনি মেলস্নাল এলাকা সফরে আসেন৷ আমার ৰমা ঘোষণা করেন৷ আমি মুক্ত হই জেল থেকে৷ ইতিমধ্যে আমার নামের সঙ্গে একটি উপাধি যোগ হয়েছে৷ সেটি হলো- মরক্কোর বয়োজ্যেষ্ঠ রাজবন্দি৷ বাসত্মবতা হচ্ছে- যে তিন শাসকের আমলে আমি কারারম্নদ্ধ জীবনযাপন করলাম তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যক্তিগত কোন আক্রোশ আমার ছিল না৷ আজ আমি মুক্ত৷ তাই বলে তাদের বিরম্নদ্ধে নেই কোন প্রতিশোধ স্পৃহা৷

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.