রংধনুর সাত রং দেখতে চলে আসুন হোক্কাইদো : গভর্নর তাকাহাশি হারুমি

রাহমান মনি: জাপানের অপরূপ সৌন্দর্য এবং রংধনুর সাত রং উপভোগ করতে আপনি চলে আসতে পারেন হোক্কাইদোতে। হোক্কাইদোতে যেমন রয়েছে তীব্র শীতের প্রকোপ, তুষারের শ্বেতশুভ্রতা, তেমনি রয়েছে বসন্তের রঙিন ফুলের সমাহার। রয়েছে গ্রীষ্মের সবুজ এবং সব শেষে কমলা। এখানে আসলে আপনি দেখতে পাবেন আদিবাসী আইনু উপজাতীয় সংস্কৃতি। এই আইনু উপজাতিরাই একসময় হোক্কাইদো রাজত্ব করত। ১৫০ বছর আগেও আইনু শাসনামলে জাপানের বৃহত্তম এই দ্বীপটির নাম ছিল এজো।

কথাগুলো বলেন হোক্কাইদোর গভর্নর তাকাহাশি হারুমি। ২৩ মার্চ ২০১৮, শুক্রবার ‘দ্যা চার্মস অফ হোক্কাইদো’ (ঞযব ঈযধৎসং ড়ভ ঐড়শশধরফড়- ঝঢ়রহহরহম ১৫০ ণবধৎং) নামক এক সেমিনারে তিনি নিজ প্রদেশ হোক্কাইদোকে পরিচিতি এবং বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে গিয়ে একথাগুলো বলেন।

২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ রাগবি প্রতিযোগিতা এবং ২০২০ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক এবং প্যারা অলিম্পিক আসরকে সামনে রেখে জাপান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং স্থানীয় সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জাপানে বহির্বিশ্বের পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রিফেকচার (প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে জাপানি প্রদেশ বা স্বনির্ভর সরকার) এর পরিচিতি ক্যাম্পেইন শুরু হয় ২০১৬ সাল থেকে।

‘দি সেকেন্ড রিজিওনাল প্রমোশন সেমিনার ইন ফিসক্যাল ২০১৭’ নামে অভিহিত ধারাবাহিক সেমিনারে এবার পরিচিত করানো হয় হোক্কাইদোকে।

২৩ মার্চ ২০১৮ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘ইকুরা’তে আয়োজিত এই সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিকবৃন্দ, বিশ্ব মিডিয়ার জাপান প্রতিনিধিগণ, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিগণ, জাপান মিডিয়া এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে গভর্নর তাকাহাশি হারুমি বলেন, এবছর হোক্কাইদো ১৫০তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। ১৮৬৮ সালে এদো যুগের অবসান ঘটলে হোক্কাইদো জাপানের মূল অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর আগে এই ভূখণ্ডটি আইনু জাতির অধীনে ছিল এবং এর নাম ছিল ‘এজো’। আদিবাসীদের এজো নামে ডাকা হতো এবং হোক্কাইদোর নাম হয় এজোচি অর্থাৎ এজোদের বাসভূমি। হোক্কাইদোতে গেলে আপনারা আইনুদের বাসভূমি, তাদের জীবনযাত্রা, খাদ্য সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবেন। নিতে পারবেন তাদের আতিথেয়তা। হোক্কাইদোকে বলা হয় আইনু সংস্কৃতির জন্মভূমি।

গভর্নর আরও বলেন, হোক্কাইদো একদিকে যেমন জলজ সম্পদের প্রাচুর্যের সমাহার তেমনি, কৃষি সম্পদের উর্বর ভূমি। জাপান কৃষি সম্পদের একটা বড় অংশ হোক্কাইদো থেকে জোগান দেয়া হয়ে থাকে। হোক্কাইদোর আলু জাপান খ্যাত।

তাকাহাশি হারুমি বলেন, ২০১৬ সালে হোক্কাইদো থেকে ৭০.২ বিলিয়ন ইয়েনের পণ্য রপ্তানি করা হয়। ২০১১ সালে যা ছিল ৩৩.৬ বিলিয়ন। অর্থাৎ মাত্র ৫ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি।

হোক্কাইদোর হাতসুনে মিকু বিশ্ব অ্যানিমেশনে জাপানকে বিশেষ মর্যাদার আসনে আসীন করছেন। হোক্কাইদোর ১৫০ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ‘ইয়ুকি মিকু’ নামে বিভিন্ন চরিত্রের অ্যানিমেশন দেখা যাবে।

এ বছর কোরিয়াতে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকে হোক্কাইদোর ৯ জন ক্রীড়াবিদ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মেডেল পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য টোকিও অলিম্পিক, প্যারা অলিম্পিকে ও হোক্কাইদোর ক্রীড়াবিদরা সাফল্য ধরে রাখবেন বলে গভর্নর তাকাহাশি হারুমি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
তিনি বলেন, গত বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে ২.৭৫ মিলিয়ন পর্যটকের পদচারণা পড়ে হোক্কাইদোতে। যা, জাপানের মোট পর্যটকের ১০%। হোক্কাইদো থেকে বিশ্বের ৮টি দেশের ১৬টি শহরে বিমান চলাচল করে প্রতিদিন।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, সেমিনারের স্পনসর (ঘঅঈ)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হোক্কাইদোতে বসবাসরত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক রোস ফিন্ডলে (জড়ংং ঋরহফষবু)।
সেমিনার শেষে অতিথিদের সম্মানে দেয়া এক নৈশভোজে প্রধান অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনোতারো উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে জাপান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিনিস্টার সেক্রেটারিয়েটের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার নাকানে কাজুয়ুকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনোতারোর লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান।

নৈশভোজে হোক্কাইদো প্রদেশে উৎপন্ন বিভিন্ন কৃষিজাত, বনজ, ফলদ, মৎস্য এবং জলজ ভাণ্ডার থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী এবং মদ (জাপানিজ সাকে)-এর প্রদর্শনী ও আপ্যায়ন। আপ্যায়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রদর্শন করা হয় আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হোক্কাইদো প্রদেশের নিজস্ব সংস্কৃতিতে আইনু সংস্কৃতিকে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিকবৃন্দ এবং বিদেশি মিডিয়াকর্মীবৃন্দ বিরল এই সংস্কৃতি উপভোগ করেন।

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.