পদ্মা সেতুর রেল নিয়ে ঋণ চুক্তির সম্ভাবনা

পদ্মা সেতুর রেল নির্মাণ নিয়ে আগামী শনিবার (২৮ এপ্রিল) চীনের সঙ্গে ঋণ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। নানা জটিলতা পেরিয়ে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মাসেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পে মিলছে চীনা সহায়তা। শনিবার চীনে এ সংক্রান্ত ঋণ চুক্তি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘পদ্মা সেতু রেলসংযোগ’ প্রকল্পে সেতুটির ওপর রেল লাইনসহ ১৬৯ কিলোমিটার রেল নেটওয়ার্ক বা নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হবে। কয়েকটি জেলা নতুন করে রেলওয়ের আওতায় আসবে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ১০ শতাংশ। এ পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ক্রমপুঞ্জিভূত ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। এ অবস্থায় প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় দেখা যায়, প্রকল্পটির মূল মেয়াদ ছিল জানুয়ারি ২০১৬ থেকে জুন ২০২২ সাল পর্যন্ত। ব্যয় ধরা ছিল ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে চীন সরকার ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা এবং বাকি ১০ হাজার ২৩৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে আসার কথা ছিল। কিন্তু সংশোধনীতে প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মূল ব্যয় থেকে ১২ দশমিক ২০ শতাংশ বা চার হাজার ২৬৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৫৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকারের ঋণ সহায়তা ৩ হাজার ৭১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা কমিয়ে ২১ হাজার ৩৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জিওবি প্রায় ৭৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ বা ৭ হাজার ৯৮১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে ১৮ হাজার ২২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রস্তাবের ওপর আগামীকাল বুধবার (২৫ এপ্রিল) প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকে প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের প্রস্তাবিত সংশোধিত ব্যয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ব্যয়ের যৌক্তিকতা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যাও শোনা হবে। একইসঙ্গে মেয়াদ দুই বছর বাড়ার যৌক্তিকতাও জানতে চাইবে কমিশন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক সেতু চালুর দিন থেকেই রেল চলাচলও উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে রেল মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠায়। তাতে বলা হয়েছিল ২০১৯ সালে পদ্মায় রেল সেতু উদ্বোধন করতে হলে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করতে হবে। মে-জুন মাস থেকে বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় জানুয়ারি মাস থেকে কাজ শুরু করতে হবে। না হলে পদ্মা সড়ক ও রেল সেতু এক সঙ্গে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে না।

এদিকে ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর মূল কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও তা কিছুটা পেছাবে। এ পর্যন্ত সেতুটির কাজ হয়েছে প্রায় ৫৩ শতাংশ। তবে, আগামী বছরের (২০১৯) মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার আশা করছে সরকার, দ্রুত চলছে নির্মাণ কাজও। এর মধ্যে স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে সড়ক সেতুর ৪৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। এ অবস্থায় পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে একই সময়ে সড়কে গাড়ি ও রেল চলাচল শুরু করার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। রেলপথ চালু করতে হলে এর সঙ্গে প্রকল্পের মধ্যে দীর্ঘ ১৬৯ কিলোমিটার রেলপথ ও কয়েকটি ছোটবড় রেল সেতুর নির্মাণও শেষ করতে হবে। অথচ প্রকল্পের এ পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ।

এদিকে ২৮ এপ্রিল চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ প্রকল্পের বহুল প্রতীক্ষিত ঋণ চুক্তি। এ বিষয়ে গত রবিবার বিআইজিএম ভবনে এক অনুষ্ঠানে রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেন, ‘পদ্মা সেতুর ওপর রেল-সংযোগ প্রকল্পের ঋণচুক্তি ২৮ এপ্রিল সই হবে। চীনের বেইজিংয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষর হবে। সে দেশের এক্সিম ব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।’

বিডি২৪লাইভ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.