রামপাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের বাসা থেকে নগদ ১০ কোটি টাকা নিয়ে রহস্য

রাজধানীর ইস্কাটন এলাকার একটি বাসা থেকে র‌্যাবের উদ্ধার করা ১০ কোটি টাকা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে টাকাগুলো কোথায় থেকে আনা হয়েছে বা কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তা জানতে পারেননি র‌্যাব কর্মকর্তারা। যার বাসা থেকে ১০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, মোশারফ হোসেন নামে সেই ব্যক্তি একজন বড় ব্যবসায়ী। র‌্যাবের অভিযানের সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় দাবি করা হয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার জন্য এই টাকা বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

বুধবার (২৫ এপ্রিল) ভোররাতে ইস্টার্ন ইস্কাটন গার্ডেন নামের ভবনের ১১ তলায় মুন্সীগঞ্জের রামপাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেনের বাসা থেকে ওই অর্থ উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ারুজ্জামান ব্রেকিংনিউজ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি ইস্কাটনের একটি বাসায় কিছু টাকা মজুদ করা হচ্ছে। টাকা পরিমাণ, কেন এই টাকা মজুদ করা হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানতে পারিনি। এভাবে কয়েকদিন নজরদারি করার পর গত মঙ্গলবার গভীর রাতে (বুধবার ভোর রাতে) ওই বাসায় যাই আমরা। সেখানে বাসায় মোশারফের পরিবারের লোকজন ছিলেন। তাদের অনুমতি নিয়েই বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। বাসার বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রলি ব্যাগে এই টাকা পাওয়া যায়। ১০ কোটি টাকার মধ্যে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা ১ হাজার টাকার নোট এবং বাকি ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা ৫০০ টাকার নোট।’

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিল্ডিংয়ের অন্যান্য লোকজনকে সাক্ষী রেখে টাকাটা রমনা থানায় জমা দিয়েছি। এখন মালিক যদি টাকা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন তাহলে আদালতের মাধ্যমে তিনি টাকা পেয়ে যাবেন। তবে আমরা জানতে পেরেছি সন্ত্রাসী বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য এই টাকা তারা মজুদ করেছিলেন।’

এজাহারে বলা হয়েছে, ‘মোশারফ হোসেন সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ও নাশকতা করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে মজুদ রেখে সন্ত্রাসীবিরোধী আইনের (সংশোধনী/২০১৩) এর ৭ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।’

জানা গেছে, ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন মোশারফ গ্রুপ নামে একটি গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার রামপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোশারফ একসময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মোশারফ হোসেনের মালিকানাধীন এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মোশারফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, মোশারফ টুইস্টিং অ্যান্ড নিটিং ইন্ড্রাস্টিজ লিমিটেড, সোনালী টুইস্টিং অ্যান্ড নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, একতা কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, নাটোর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, মোশারফ ব্রাদার্স, আসুসেম, আবীর এন্টারপ্রাইজ, হাকিম অ্যান্ড সন্স, ক্রাউন টুইস্টিং ইন্ডাস্ট্রিজ।

আরও জানা যায়, ইস্কাটন গার্ডেন সড়কের বোরাক টাওয়ারের ৮ তলায় এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়। বৃহস্পতিবার মোশারফ হোসেনের বাসা ও প্রতিষ্ঠানে গেলেও বিষয়টি নিয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

ব্রেকিংনিউজ
=============================

র‌্যাবের উদ্ধার করা ১০ কোটি টাকার রহস্য কী?

ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোরাজধানীর ইস্কাটন এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে র‌্যাবের উদ্ধার করা দশ কোটি টাকা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় দাবি করা হয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার জন্য এই টাকা বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে টাকাগুলো কোত্থেকে আনা হয়েছে বা কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তা জানতে পারেননি র‌্যাব কর্মকর্তারা। যার বাসা থেকে ১০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, মোশারফ হোসেন নামে সেই ব্যক্তি একজন বড় ব্যবসায়ী। র‌্যাবের অভিযানের সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। ঢাকার উপকণ্ঠে তার একাধিক স্পিনিং মিল রয়েছে বলে জানা গেছে।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার উজ জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল—৭-৮ দিন আগে ওই বাসায় ট্রলি ব্যাগে করে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা মজুদ করা হয়েছে। এসব টাকা নাশকতার কাজে ব্যবহার করা হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ওই বাসায় অভিযান চালাই। বাসায় এসময় মালিক ছিলেন না।’ তার স্ত্রী নাসরিন হোসেন টাকার উৎস সম্পর্কে কোনও তথ্য জানাতে পারেননি।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা টাকাগুলো জব্দ দেখিয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি। টাকার মালিক তার টাকার উৎস সম্পর্কে আদালতকে যথাযথ প্রমাণ দেখাতে পারলে সেখান থেকে তিনি টাকা ছাড়িয়ে নিতে পারবেন। এছাড়া আমরাও অনুসন্ধান করছি টাকাগুলো কেন তিনি মজুদ করেছিলেন।’

দশ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় র‌্যাব-২-এর পুলিশ পরিদর্শক রুহুল কুদ্দুস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত সোমবার মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২-এর একটি টিম ৪১ নম্বর নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্টার্ন গার্ডেন অ্যাপার্টমেন্টের ১১ তলায় ১০০২ নম্বর ফ্ল্যাটে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা মজুদ আছে। পরে রাত ৩টা ৪০ মিনিটে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেনের স্ত্রী নাসরিন হোসেনের কাছে টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নাসরিন আহমেদ নগদ টাকা থাকার কথা অস্বীকার করলে পরবর্তী সময়ে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে ৪টি ট্রলিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ট্রলিব্যাগগুলোর তালা খুলে ভেতর থেকে মোট ১০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, মোশারফ হোসেন সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ও নাশকতা করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে মজুদ রেখে সন্ত্রাসীবিরোধী আইনের (সংশোধনী/২০১৩) এর ৭ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

র‌্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোশারফ হোসেনের নগদ টাকা মজুদের বিষয়টি জানা গেছে। এই টাকা ব্যবসায়িক কোনও কাজের হলে তা ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হওয়ার কথা ছিল। সাধারণত কোনও ব্যবসায়ী এত টাকা ট্রলিব্যাগের মাধ্যমে বাসায় এনে রাখেন না। এসব টাকা হয়তো কোথাও বা কারও কাছে হস্তান্তর বা পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছিল। কারণ ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী নাসরিন হোসেনও এই টাকার উৎস সম্পর্কে কোনও তথ্য জানাতে পারেননি।

র‌্যাবের বিভিন্ন অভিযানের খবর সংগ্রহের জন্য আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে সংবাদমাধ্যমে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও ১০ কোটি টাকা উদ্ধারের বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়নি। ঘটনার দুই দিন পর বুধবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

এদিকে, উদ্ধার হওয়া টাকা জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে রমনা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এসব টাকা বুঝে নেওয়ার পর আদালতের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে রমনা থানা পুলিশ। যোগাযোগ করা হলে পুলিশের রমনা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা আদালতের অনুমতি নিয়ে পুরো টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছি। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।’

ওই ভবনের প্রধান নিরাপত্তারক্ষী সেলিম হাসান জানান, ‘মধ্যরাতে সাদা পোশাকে ও পোশাকধারী র‌্যাব সদস্যরা এসে ১০০২ নম্বর ফ্ল্যাটে যেতে চান। আমাকে তাদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে তারা একটি কক্ষ থেকে অনেক টাকা উদ্ধার করে নিয়ে যান। এ সময় স্যার (মোশারফ হোসেন) ছিলেন না। এসব টাকা কী জন্য তারা নিয়ে গেছেন, তা আমার জানা নেই।’

জব্দ তালিকার এক নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে ৮০১ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দ ডা. আলী আকবরকে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার ভাগনের অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে আমরা মধ্যরাতে হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ সময় একজন সিকিউরিটি গার্ডসহ দুজন র‌্যাব সদস্য আমাকে ডেকে ওই ফ্ল্যাটের নিয়ে যান। সেখানে আমি গিয়ে কয়েকটি খোলা ট্রলিব্যাগে অনেক টাকা দেখি। তারা আমার সামনে টাকা গুনে একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে যান।

ডা. আলী আকবর বলেন, র‌্যাব সদস্যরা আমাকে কিসের টাকা বা কিসের অভিযান এসব কিছুই বলেনি। স্বাক্ষর নিয়ে আমার কাজ শেষ বলা হলে আমি চলে আসি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন মোশারফ গ্রুপ নামে একটি গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার রামপাল এলাকার বাসিন্দা মোশারফ একসময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মোশারফ হোসেনের মালিকানাধীন এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মোশারফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, মোশারফ টুইস্টিং অ্যান্ড নিটিং ইন্ড্রাস্টিজ লিমিটেড, সোনালী টুইস্টিং অ্যান্ড নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, একতা কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, নাটোর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, মোশারফ ব্রাদার্স, আসুসেম, আবীর এন্টারপ্রাইজ, হাকিম অ্যান্ড সন্স, ক্রাউন টুইস্টিং ইন্ডাস্ট্রিজ। ইস্কাটন গার্ডেন সড়কের বোরাক টাওয়ারের ৮ তলায় এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়। বৃহস্পতিবার মোশারফ হোসেনের বাসা ও প্রতিষ্ঠানে গেলেও বিষয়টি নিয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

তবে মোশারফের পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক স্বজন জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে গাজীপুরে মোশারফ হোসেনের মালিকানাধীন একটি স্পিনিং মিলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ওই প্রতিষ্ঠান থেকেই নগদ টাকা এনে বাসায় রাখা হয়। আর মোশারফ হোসেন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন না। তিনি গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে দিনভর চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

বাংলা ট্রিবিউন
নুরুজ্জামান লাবু

One thought on “রামপাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের বাসা থেকে নগদ ১০ কোটি টাকা নিয়ে রহস্য

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.