সরকারি হরগঙ্গা কলেজ : শ্রেণিকক্ষ দখল করে অধ্যক্ষের বাস!

মুন্সীগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের শ্রেণিকক্ষ দখল করে প্রায় দুই বছর ধরে বসবাস করে আসছেন অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মীর মাহফুজুল হক। কলেজের টাকায় খাওয়া-দাওয়ার কাজটিও চালিয়ে নিচ্ছেন তিনি। শুধু তাই নয়, সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে গত এক বছরে কয়েক লাখ টাকার তেল পুড়িয়েছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকলেও অধ্যক্ষ নিজের ক্ষমতায় প্রায় দুই বছর ধরে কলেজ ভবনে বসবাস করছেন। ২০১৬ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কলেজে বসবাস করেও তিনি মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বাবদ পাঁচ লাখ ৫১ হাজার ২৫০ টাকা উত্তোলন করেছেন। অন্যদিকে প্রতি মাসেই বেতন বিলে উল্লেখ করছেন, তাঁর নামে কোনো সরকারি বাসা বরাদ্দ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ শহরের পাশেই সরকারি হরগঙ্গা কলেজ। ১৯৩৯ সালে স্থাপিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পড়ালেখার মান ও পরিবেশের বেশ সুনাম রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ভেতরে গিয়ে উল্টো চিত্র দেখা যায়। স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু স্নাতক (সম্মান) ভবনের তৃতীয় তলায় চোখে পড়ে একটি সুসজ্জিত মিনি বাসভবন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একসময় সেখানে পদার্থবিজ্ঞানের শ্রেণিকক্ষ ছিল। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল কাইয়ুম কলেজের টাকায় এটি সংস্কারের মাধ্যমে নিজের জন্য বিলাসবহুল একটি মিনি বাসভবন তৈরি করেন। এরপর থেকেই এখানে চলতে থাকে শিক্ষকদের বসবাস।

বর্তমান অধ্যক্ষ ড. মীর মাহফুজুল হক ২০১৬ সালে এই প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছেন। প্রথমদিকে খুব একটা আসবাব ছিল না। পরে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য কলেজের মালপত্র কেনার ভাউচার করে একটি এসি, ৪২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন, রুম হিটার, আলমারি, সু-র‌্যাকসহ প্রায় চার লাখ টাকার জিনিসপত্র কিনে ব্যবহার করে আসছেন তিনি। খাওয়া-দাওয়ার পর্বটিও কলেজের টাকায় সারছেন। প্রতি মাসে তাঁর খাবার খরচ ৫০ হাজার টাকা। বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে তিনি এই টাকা তোলেন। তা ছাড়া সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে গত এক বছরে কয়েক লাখ টাকার তেল পুড়িয়েছেন। এদিকে কলেজের পরিবহনব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গাড়ি মেরামত ও যাতায়ত বাবদ চার লাখ টাকা তোলা হলেও পরিবহনব্যবস্থা সচল করা হয়নি।

এ ব্যাপারে কলেজের একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে যোগদানের পর থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে বাস করছেন অধ্যক্ষ। তাঁর ব্যক্তিগত খরচও কলেজ তহবিল থেকে নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ড. মীর মাহফুজুল হক বিরক্তির সুরে বলেন, ‘আমি কি করি, না করি—এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার! শ্রেণিকক্ষে বসবাস করার বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখবে।’ এ বিষয়ে বাইরের কাউকে জবাব দিতে রাজি নন জানিয়ে কল কেটে দেন তিনি।

কালের কন্ঠ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s