গজারিয়ার চিকিৎসক স্বামীর বিরুদ্ধে নারীঘটিত অভিযোগ ডা. স্ত্রীর

মোছাদ্দেক হোসেন লাভলু, পেশায় সরকারি চিকিৎসক। একের পর এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে বিছানায় নেন। নিজের চাহিদা মেটার পর তাদের ছুড়ে ফেলেন। ঘরে চিকিৎসক স্ত্রী থাকতেও তার কাছে গৃহকর্মী থেকে শুরু করে স্বজনদের কন্যারা পর্যন্ত নিরাপদ নন। লাভলু বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) পদে কর্মরত।

শিক্ষিত সমাজে কীভাবে নারীকে ভোগের পণ্য আর নির্যাতন করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতে হয়, তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

স্ত্রীর ভাষ্যে, চলতি বছরের মার্চে লাভলু তার বাসার কাজের বুয়ার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়েন। এক পর্যায়ে তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু, প্রথম স্ত্রীর কোনো অনুমতি কিংবা জানানোর প্রয়োজনও মনে করেননি।

লাভলুর স্ত্রী ডা. দৌলতুন্নেছা লাভলী রাজধানীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাকরি করেন।

পরিবর্তন ডটকমের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, স্বামীর অপকর্ম জেনেও দীর্ঘ ১৬ বছর ঘর করছেন। কিন্তু, এখন সেটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কাজের মেয়েকে পর্যন্ত নষ্ট করে, পরে বউ বানিয়েছে। তিনি স্বামীর বিচার দাবি করেন।

আলাপ সূত্রে জানা গেছে, ডা. মোছাদ্দেক হোসেন লাভলুর সঙ্গে ২০০২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ডা. লাভলীর বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র ছেলে রাজধানীর একটি স্কুলে অষ্টম এবং মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে।

স্বামীর কয়েকটি অপকর্ম তুলে ধরে ডা. লাভলী বলেন, ২০১৬ সালে একবার কনিকা নামে তার চাচাতো বোনের সঙ্গে লাভলু অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে তাকে বিয়ে করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। এজন্য বন্ধুকে দিয়ে আমাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত আমি লাভলুকে ডিভোর্স দেইনি বলে সেই বিয়ে হয়নি।

এ ঘটনার পর স্ত্রীর ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। ২০১৬ সালের নভেম্বরে ডা. দৌলতুন্নেছা লাভলী স্বামীকে উকিল নোটিস দেন। এক পর্যায়ে স্বামী ভুল স্বীকার করে অনুরোধে করলে তা তুলে নেন।

ডা. লাভলীর ভাষ্যে, এরপর থেকে সব কিছু স্বাভাবিক চলছিল। গত মার্চের প্রথম দিকে ডা. লাভলুর মা তার সোনারগাঁওয়ের বাসায় একজন কাজের মেয়ে নিয়ে আসেন। কিছুদিন পরই সে ওই মেয়ের সঙ্গে মেলামেলা শুরু করেন। এখন জেনেছি, দু’দুবার স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারীকে বিয়ে করেছে ডা. লাভলু।

এটিও ডা. লাভলী জেনেছেন, স্বামীকে ফোন করে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২ এপ্রিল আমি লাভলুকে ফোন দেই। তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ধরেন এক নারী। আমার তো আকাশ থেকে পড়ার অবস্থা! বললাম, আমি তার স্ত্রী ডা. লাভলী বলছি। তখন মেয়েটি জানান, সে (ডা. লাভলু) আমাকে বিয়ের করার আগে বলেছেন, আপনি (ডা. লাভলী) তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি তার (কাজের মেয়ে) কথা বিশ্বাস করতে পারেনি। ফলে মেয়েকে দিয়ে ফোন করি। লাভলু মেয়েকেও বলেছে, হ্যাঁ সে বিয়ে কাজের মেয়েটিকেই বিয়ে করেছে।

ডা. লাভলী বলেন, ‘স্বামীর চরিত্র সম্পর্কে আগেই জানি। ভয়ে বাসায় কাজের মেয়ে পর্যন্ত রাখতে পারতাম না। বলতে লজ্জাবোধ করতাম। ভাবতাম, হয়তো শুধরিয়ে নিতে পারব। কিন্তু, সে আমার সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। এখন বলতে বাধ্য হচ্ছি।’

তিনি দাবি করেন, এসবের প্রতিবাদ করায় লাভলু তাকে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে নিপীড়ন করেছেন।

আক্ষেপ করে ডা. লাভলী বলেন, ২০০৬ সালে স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তার চিকিৎসাসহ সংসারের যাবতীয় ব্যয় নিজে বহন করে চলেছি। আমি তখন ঢাকার একটি ক্লিনিকে প্রাকটিস করতাম। সে সময়ে সে এফসিপিএস করা এক ছাত্র এবং ও আমার দুলা ভাইয়ের সঙ্গে মিথ্যা দৈহিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে নির্যাতন করে।

দিনের পর দিন এসব সহ্য করেছেন ডা. লাভলী। শুধুমাত্র বাচ্চাদের মুখের দিকে চেয়ে। কিন্তু, শেষ রক্ষা হলো না। দ্বিতীয় বিয়ে করায় এখন তিনি স্বামীর বিচার চান। প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

প্রথম স্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে ডা. মোছাদ্দেক হোসেন লাভলু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বিয়ে-সাদি একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। স্ত্রীকে নির্যাতন করেছি, অস্বীকার করছি না। কিন্তু, সেও আমাকে নানাভাবে হেনস্থা করে চলেছে।’

আলাপের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন, একজন চিকিৎসক হিসেবে আমার সম্মান আছে। তারও (ডা. লাভলী) সম্মান আছে। এ নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট করার দরকার নেই।’

স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ডা. মোছাদ্দেক হোসেন লাভলুর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পরিবর্তন

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s