সিপাহীপাড়ায় গড়ে উঠছে মিনি গার্মেন্টস

মাহবুব আলম জয়: মুন্সিগঞ্জে পোশাক শিল্পে বইছে উন্নয়নের হাওয়া। মুন্সিগঞ্জের পোশাক শিল্প জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন বয়সি শিশুদের পোশাকের যোগান দিয়ে যাচ্ছে। দেশে শতকরা ৭০ ভাগ শিশুদের পোশাক তৈরি হচ্ছে মুন্সিগঞ্জে। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার সিপাহীপাড়া, শাখারী বাজার, সুজানগর, রিকাবী বাজার, গোয়ালঘুর্নী, চন্দনতলা ও দরগাবাড়ি, কাজী কসবাসহ বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠেছে প্রায় ৫ শতাধিক মিনি গার্মেন্টস।

এই গার্মেন্টসে তৈরি হওয়া পোশাক পাইকারি বিক্রয় হচ্ছে রাজধানী ঢাকার সদরঘাট, জুরাইন, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট চিটাগাং, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। সেখান থেকেই দেশব্যাপী ছড়িয়ে যাচ্ছে মুন্সিগঞ্জে তৈরি হওয়া এই হরেক রকমের পোশাক। একশ হতে আটশত টাকা পর্যন্ত পাইকারিতে শিশুদের পোশাক বিক্রয় করেন পোশাক শিল্পের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা।

বছরের মধ্যে নয়মাস পর্যন্ত তাদের পোশাক তৈরির কার্যক্রম চলে। বিশেষ করে ঈদ উৎসবগুলোতে বেশি সক্রিয় থাকে পোশাক শিল্পের ব্যবসা। অনেকেই বিদেশ যেতে না পেরে এবং বিদেশ ফেরতদের স্বপ্নের নাম মিনি গার্মেন্টস বা পোশাক শিল্প। এই ব্যবসায় পাঁচ লাখ টাকা হতে চাহিদা মতো পুঁজি খাটানো যায়। প্রতিটি কারখানায় গড়ে ৮ জন হতে ২৫ জন কারিগর কাজ করে থাকেন। মুন্সিগঞ্জের এই পোশাক শিল্প উপরোক্ত এলাকার অন্যতম আয়ে পরিণত হয়েছে।

রিমান গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী মো. আসলাম দেওয়ান বলেন, পোশাক শিল্প মুন্সিগঞ্জে জাতীয় পর্যায়ে গুরুতপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ এই ব্যবসার সাথে জড়িত। মিনি গার্মেন্টস ব্যবসীর স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম আহমেদ জানান, এই ব্যবসায় অনেকেই সফলতা অর্জন করছেন। এই ব্যবসাকেন্দ্রিক অঞ্চল দেশে শিশু ছেলে মেয়েদের পোশাকের যোগানে অনন্য ভূমিকা রাখছেন। কাদামাটির স্বত্বাধিকারী আরিফুর রহমান অপু জানান, আধুনিকতায় ভর করে আজ পোশাক শিল্প পেয়েছে নতুন মাত্রা। ফলে আধুনিক সভ্যতার কল-কারখানাও কুটির তথা পোশাক শিল্পের কাজে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। এই তৈরিকৃত পণ্য আরো নান্দনিক ও সুন্দর হয়েছে এবং মুন্সিগঞ্জের পোশাক শিল্পে সফলতা অর্জন করছেন ব্যবসায়ীমহল।

মিনি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সুমন শেখ বলেন, এই শিল্পে দ্রুত উন্নতি সম্ভব। তবে ধৈর্য এই ব্যবসার অনন্য বিষয় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন আমাদের স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি দেশের উন্নতিতে শিশুদের পোশাক শিল্পের ভূমিকা অনন্য। কারিগর শফি মিয়া বলেন, আমরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চুক্তিতে কাজ করে থাকি। বিভিন্ন ডিজাইনে তৈরি করা হচ্ছে নানান স্বাচ্ছন্দ্যময় পোশাক। যার কদর দেশব্যাপী। মুন্সিগঞ্জের এই পোশাক শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মিনি গার্মেন্টস মালিক ও কারিগরদের নিয়ে নেই কোনো সম্মিলিত সংগঠন।

এ ছাড়াও প্রয়োজনীয় কাপড় সামগ্রী কিনতে হলে রাজধানীতেই যেতে হয়। এই ব্যবসায় অনেক বাকি পড়লেও বিশিষ্টজনের ধারণা সম্ভাবনাময় পোশাক শিল্পে মুন্সিগঞ্জ উন্নয়নে ধাবিত হচ্ছে। একাধিক মিনি গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর দাবি এই মুন্সিগঞ্জে তাদের তৈরি পোশাক পাইকারি বিক্রয় বাজার গড়ে তোলা হোক।

নিউজজি

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.