মুন্সীগঞ্জ-১ আসন: বড় দুই দলে বিভক্তি, প্রার্থীরা মাঠে

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনটি ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। এই আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা আলাদাভাবে উঠোন বৈঠক, গণসংযোগ আর দলীয় সভা-সমাবেশ করে দলকে পুনরুজ্জীবিত করে রেখেছেন। বিএনপি নির্বাচনে আসার ঘোষণা না দিলেও দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা বসে নেই। তারাও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পাটির আমলে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্তমানে বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রীনগর ও সিরাজদিখান আসনকে শাসন করেছেন দীর্ঘবছর।

বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের শ্রীনগর ও সিরাজদিখান-এই দুই উপজেলায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে ভয়াবহ দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব কোথাও কোথাও দুই থেকে তিনগ্রুপে বিভক্ত। সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।

বর্তমানে বড় দলে থাকায় শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন নিজেকে ধরে রাখতে পারলেও বি. চৌধুরী ও তার দল বিকল্পধারা রয়েছে অস্তিত্ব সংকটে। তবে, বি. চৌধুরী বিএনপি ছাড়ার পর এই নির্বাচনী এলাকায় অভিভাবকহীন হয়ে রয়েছে বিএনপি। পাল্টা-পাল্টি কমিটি, দলীয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে কয়েকবার।

এদিকে, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ মাস ধরে তারা এই নির্বাচনী এলাকায় রয়েছেন অনুপস্থিত। বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরীরও এলাকায় কোন পদচারণা নেই।

শ্রীনগর উপজেলার ১৪টি ও সিরাজদিখান উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জের আসন একটি কমে তিনটি হয়। এরআগে শ্রীনগর উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নের সঙ্গে সিরাজদিখান উপজেলার আংশিক ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিলো। আর এই কারণে বড় দুইটি দল থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রীনগর উপজেলার বাসিন্দারা মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে দলীয় নমিনেশন পেয়ে আসছেন।

এদিকে, মুন্সীগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকার সিরাজদিখান ও শ্রীনগরে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত। হয়েছে সংঘর্ষ, একাধিক মামলা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রুপের সঙ্গে অপর গ্রুপের শ্রীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ মো. মমিন আলী গ্রুপের কয়েকদফা সংঘর্ষ হয়েছে। শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে তাদের এই বিরোধ। এই দুইগ্রুপই আলাদাভাবে দলীয় ও বিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।এছাড়াও একই কারণে বিরোধ সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপিতেও।

বিএনপি থেকে প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ মমিন আলী, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি মীর সরফত আলী সপু, আল-মুসলিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন। এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। গত বছরের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগ নেতা গোলাম সারোয়ার কবির গ্রুপের মধ্যে পাল্টা পাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে। সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়। দুই গ্রুপই পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করে।

সংঘর্ষের দুই দিন পর উপজেলার ঝুমুর সিনেমা হলের সামনে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষকে দ্রুত ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। এরপর থেকে অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি আর এলাকায় আসেননি। তবে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ ১০ মাস এলাকায় না থাকলেও গত ২৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় যোগ দেন। তার অনুপুস্থিতির কারণে শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলার উন্নয়ন কাজে ভাটা ও প্রশাসনিক কাজে স্বেচ্ছাচারিতার প্রশ্ন উঠে। দুই উপজেলায় কয়েক শত অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসাবে তার নাম থাকলেও তিনি কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। এমপির অনুপস্থিতিতে তার সমর্থকরা মুন্সীগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকায় প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ঢাকায় বসে এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাদের দাবি, সুকুমার রঞ্জন ঘোষ আওয়ামী লীগের টিকেট নিয়েই এলাকায় ফিরবেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ছাড়াও প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন, চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও একই কলেজের ছাত্রসংসদের ভিপি, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের প্রেসিডেন্ট নুরুল আলম চৌধুরী, সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবীর এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক এবং মেট্রো বাংলা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের পরিচালক মাকসুদ আলম ডাবলু।

বর্তমান সংসদ সদস্য ও শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ বলেছেন, আগামী নির্বাচনে নমিনেশন প্রাপ্তিতে তিনি শতভাগ আশাবাদী। তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। জয়ের ব্যাপারে কঠিন কোন সমস্যা হবে না। তিনি এলাকায় কাজ করে ব্যাপক সাড়া জাগানোই এলাকার ভোটাররা তাকে পছন্দ করছেন এবং ভোটও নৌকা মার্কাকেই দেবেন। বড় দল, তাই নমিনেশন যে কেউ চাইতেই পারে। বি.চৌধুরী ও শাহমোয়াজ্জেম হোসেনের অতীতের কর্মকা- বিবেচনায় তাদের এলাকার ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

প্রার্থী অধ্যাপক ডা. বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু ১৯৭৮ সালে ওবায়দুল কাদের-বাহালুল মজনুন চুন্নু দ্বারা গঠিত ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। এবারই তিনি প্রথম প্রার্থী তালিকায় এসেছেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে দলীয় নমিনেশন দেবেন-এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে এই চিকিৎসক প্রার্থী বলেন, নৌকার জয় মানে তার জয় নয়-এ দেশের প্রত্যেকটি মানুষের জয়, এই দেশের জয়, এই মাটির জয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জয়-জননেত্রী শেখ হাসিনার এই বার্তা নিয়ে তিনি মুন্সীগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছেন বলে জানান।

প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মালখানগর ইউনিয়নের পাঁচবার চেয়ারম্যান ছিলেন। একজন পোড়খাওয়া নেতা হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি। সিরাজদিখান উপজেলা থেকে তিনি এইবার একমাত্র প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন।

তিনি জানালেন, সিরাজদিখানে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব শক্তহাতে ধরে রেখেছেন। দুই টার্ম জনগণ তাকে ভোট দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। ১৯৭০ সালে জামালউদ্দিনের পর সিরাজদিখান থেকে আর কেউ এমপি নির্বাচিত হয়নি। তিনি দীর্ঘ বছর ধরে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে আসছেন। সিরাজদিখানের সন্তান হিসেবে এইবার তিনি সিরাজদিখান থেকে দলীয় নমিনেশন চাচ্ছেন। নৌকা পেলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ের আশা করছেন।

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম সারোয়ার কবীর প্রার্থী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করার পর থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ গ্রুপের সঙ্গে তার সমর্থকদের কয়েকদফা সংঘর্ষ, মামলা ও ছাত্রলীগের একাধিক কমিটি হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয় নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
গোলাম সারোয়ার কবির মনে করেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে নমিনেশন দেবেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে তৃণমূলে গড়ে উঠা তিনি একজন কর্মী। তিনি এলাকার মানুষের ও জনগণের নেতা বা সেবক হতে চান। দলীয় নমিনেশন পেলে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত বলে তিনি দাবি করেন।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়া সংগঠক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সি.আই.পি ব্যবসায়ী প্রার্থী নুরুল আলম চৌধুরী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৮ সালের দু:সময়ের এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করেছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা-ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। কাজেই দলীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন বলে নুরুল আলম চৌধুরীর বিশ্বাস।

শ্রীনগর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কোলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নেছারউল্লাহ সুজন বলেছেন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য নেতা বা ব্যক্তি। সংগঠনের মূল নেতৃত্ব তার সঙ্গে রয়েছে। এই আসনে যারা নির্বাচন করতে চাইছে, তারা নির্বাচন করার মতো গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। তারা সুকুমার রঞ্জন ঘোষের ব্যাপক উন্নয়নকে ঢাকতে চাইছেন এবং ব্যক্তিগত বিরোধীতা করে তার অবস্থান নড়েবড়ে করার চেষ্টা করছেন।

শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, দলীয় কিছু লোক আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন দলীয় প্রার্থী আছেন এবং থাকবেন বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপির পরও মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকা বিভাগের ভোট প্রাপ্তিতে প্রথম হয়েছেন।

শ্রীনগর উপজেলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, মমিন আলী তৃণমূলের রাজনীতি থেকে এসেছেন। তাই তৃণমূল ও সাধারণ জনগণ মমিন আলীকে এমপি হিসেবে পেতে চায়। মমিন আলীই বিএনপির তৃণমূলের প্রার্থী বলে উপজেলা বিএনপির এই নেতার দাবি।

এই ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দেশে নির্বাচনের কোন পরিস্থিতি নেই, ইলেকশনও দেখছি না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু বলেন, বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজানো মামলায় নির্জন কারাগারের নির্জন সেলে রাখা হয়েছে। তাকে মুক্তি দেয়া এবং সহায়সক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচনে দল তাকে বিবেচনা করবে। এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবরণসহ তার বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলা হয়েছে।

সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আল-মুসলিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি যাবে না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে, নির্বাচনে দলীয় নমিনেশন পেলে সর্বস্তরের জনগণের ভালোবাসায় জয়ী হয়ে অবহেলিত মুন্সীগঞ্জ-১ আসনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আধুনিক নগর হিসেবে গড়া তুলবেন। দলীয় কোন্দল প্রসঙ্গে তিনি শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। এখানে ছোট-খাটো কোন্দল থাকাটা স্বাভাবিক এবং দল নির্বাচনের ঘোষণা দিলে এই কোন্দল আর থাকবে না। সবাই ধানের শীষের প্রেস্টিজ নিয়ে মাঠে থাকবে।

এদিকে, বিএনপির ব্যানারে চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব বর্তমান বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি প্রার্থী না হলে আসনটিতে তার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। জাতীয় পার্টির হয়ে এই আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের ব্যক্তিগত আইনজীবী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মো. সিরাজুল ইসলাম। তবে শেষ মূহুর্তে জোট-মহাজোটের কারণে পাল্টে যেতে পারে প্রতীক ও প্রার্থীর নাম। সে ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী এই আসনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে জোট নয় ভোটের রাজনীতি। এখানে জামায়াতে ইসলামিসহ বামদলগুলোর তেমন ভোট ব্যাংক নেই।

অবজারভার

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.