ঈদের অজুহাতে অভ্যন্তরীণ রুটে পরিবহন খাতে নৈরাজ্য

ঈদের অজুহাতে মুন্সীগঞ্জের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরিবহন খাতে ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। শিমুলিয়া টু চাষাড়া, মুক্তারপুর টু চাষাড়া ও শিমুলিয়া টু মুক্তারপুর রুটে যাত্রীদের ওপর নেমে এসেছে বাড়তি ভাড়া আদায়ের খড়্গ।

ঈদের অজুহাতে শিমুলিয়া টু চাষাড়া রুটে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় যাত্রী প্রতি ভাড়া আদায় করা হয়েছে ৫০০ টাকা। সন্ধ্যার পর ওই রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে এই ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটে। প্রকৃত পক্ষে এই রুটে ভাড়া হচ্ছে ১৪০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়াঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া মুখো যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়। সিএনজি সংকটের কারনে বাধ্য হয়েই যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিয়েই সিএনজি চালিত অটোরিকশা চড়েন।

যাত্রীরা জানান, সন্ধ্যা নামতেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের কবলে পড়েন তারা। ১৪০ টাকা থেকে ১৫০ টাকার ভাড়ার স্থলে ২০০ কিংবা ২৫০ টাকা আদায়ই যথেষ্ট ছিল। অথচ সিএনজি সংকটের মুখে ৫০০ টাকা করে যাত্রী সাধারণ লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়াঘাট থেকে নারায়নগঞ্জের চাষাড়ার উদ্দেশে রওনা হন।

এ প্রসঙ্গে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা বলছেন- ভাই ঈদের মৌসুম। এর সঙ্গে যোগ হয় যাত্রী সংখ্যা ছিল নেহাত কম। আবার চাষাড়া থেকে দুয়েকজন যাত্রী নিয়েই তারা ছুটে গিয়েছিলেন শিমুলিয়া ঘাটে। তাই ভাড়া পোষাতে বাড়তি ওই ভাড়ায় শিমুলিয়াঘাট থেকে চাষাড়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

সড়ক পথে মুক্তারপুর-শিমুলিয়াঘাট রুটে ঈদের রেশ কাটেনি। এই রুটে সিএনজি চালিত ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় যাত্রী প্রতি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে খেয়াল খুশি মতো। চালকদের ইচ্ছে মাফিক ভাড়া আদায়ের কারণে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়ে চলেছে।

সড়ক পথে মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর থেকে লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়াঘাট পর্যন্ত দুরত্ব সবে মাত্র ৩৮ কিলোমিটার। অথচ এই সামান্য দুরত্বের এই রুটে যাত্রী প্রতি ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

আবার সন্ধ্যা নামলেই ভাড়া আরো বেড়ে যায়। রাতের অজুহাতে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে সন্ধ্যার পর থেকে ২০০ টাকা থেকে শুরু যেমন খুশি তেমন। এ অবস্থায় সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে যাত্রী সাধারন।

এদিকে, চালকদের খেয়াল খুশি মতো ভাড়া আদায়ের ঘটনায় যাত্রী সাধারনের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সিএনজি চালিত চালক ও মালিকরা এক তরফা ভাবে এই ভাড়া আদায় করেছে বলে যাত্রী সাধারণ অভিযোগ করেছেন।

যাত্রীরা বলছেন- ঈদুল ফিতরের সপ্তাহ দুয়েক আগেও মুক্তারপুর-শিমুলিয়াঘাট রুটে যাত্রী প্রতি সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় ভাড়া ছিল ১০০ টাকা। কিন্তু ঈদের দুয়েক দিন আগে থেকে এই রুটে যাত্রীদের ওপর ইচ্ছে মাফিক ভাড়া আদায়ের খড়গ নেমে আসে।

যাত্রী জাহাঙ্গীর আলম জানান, দেশের দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়াঘাট। এ কারণে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে সহজ যাতায়াতের পথ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকার অনেক যাত্রীই মুক্তারপুর-শিমুলিয়া রুট ব্যবহার করে থাকে।

এই রুটে যাত্রী সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। কিন্তু সেই অনুপাতে সিএনজি কিংবা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার সংখ্যা নেহাত কম। এতে অনেক সময় অটোরিকশার অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় যাত্রীদের। আর সেই সুযোগেই ঈদের অজুহাতে ইচ্ছে মাফিক যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

যাত্রী অনন্ত জলিল বলেন, এই রুটে দুরত্ব অনুযায়ী ১০০ টাকা ভাড়াই যথেষ্ট ছিল চালকদের জন্য। কিন্তু এখন অটোরিকশা চালকরা যে যার খুশি মতো যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। চালক-মালিকরা ইচ্ছে মাফিক এই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

ইচ্ছে মাফিক ভাড়া আদায়ের প্রতিকার চায় যাত্রী সাধারণ। সড়ক পথে সিএনজি কিংবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা দরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিগগির এই রুটে ভাড়া নির্ধারণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন যাত্রী সাধারণ।

অন্যদিকে, মুক্তারপুর-শিমুলিয়াঘাট রুটে ইচ্ছে মাফিক ভাড়া আদায়ের কারনে নিয়মিত যাত্রীদের যাতায়াতের ব্যয় বেড়ে গেল। এটা তাদের উপর জুলুমের সামিল বলে মনে করছেন। অতিরিক্ত এই ভাড়া আদায়ের কারনে চালকদের সঙ্গে যাত্রী সাধারণের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হচ্ছে প্রায়শ প্রতিনিয়ত যাত্রী ও চালকের মধ্যে বচসা বাঁধছে।

সিএনজি চালক মো. মোজাম্মেল ইচ্ছে মাফিক ভাড়া আদায়ের সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই রুটে বর্তমানে যাত্রী কম। তাই অটোরিকশায় যাত্রী মিলছে না তেমন। অগত্যা নির্ধারিত ৫ জনের কম যাত্রী নিয়েই তাদের রওনা দিতে হচ্ছে। তাই যাত্রী প্রতি বেশি ভাড়া আদায় করতে হচ্ছে অনেকটা বাধ্য হয়েই।

মুক্তারপুর-চাষাড়া রুটে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এক লাফে যাত্রী প্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সিএনজি চালিত চালক ও মালিকরা এক তরফাভাবে এই ভাড়া বৃদ্ধি করেছে বলে যাত্রী সাধারণ অভিযোগ করেছেন।

চালক মালিকদের খেয়াল খুশি মতো ভাড়া বৃদ্ধির ঘটনায় যাত্রী সাধারণের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধির কারণে এই রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের বচসার ঘটনাও ঘটছে। চালক ও যাত্রীর মধ্যে হচ্ছে বাক-বিতন্ডা পর্যন্ত।

মুক্তারপুর-চাষাড়া রুটের নিয়মিত যাত্রী শুভ সাহা জানান, মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া পর্যন্ত সিএনজি চালিত অটোরিকশায় আগে ৪০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ ছিল। এতে যাত্রীরা অনেকটা খুশিই ছিলেন।

কিন্তু ঈদের রেশ না কাটতেই এই রুটে যাত্রী প্রতি ৬০ টাকা করে ভাড়া আদায় করছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। এক তরফাভাবে এই ভাড়া বৃদ্ধিতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করেই এই ভাড়া বৃদ্ধি যাত্রীরা কোন মতেই মেনে নিতে পারছেন না।

যাত্রী সুমন ইসলাম বলেন, দুরত্ব অনুযায়ী ৪০ টাকা ভাড়াই যথেষ্ট ছিল চালকদের জন্য। এখন এক লাফে ২০ টাকা বৃদ্ধি করা নেহাত জুলুম ছাড়া আর কিছুই নয়। চালক-মালিকরা অনেকটা খেয়াল খুশি মতোই এই ভাড়া বাড়িয়েছে।

ভাড়া বৃদ্ধির প্রসঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার একাধিক চালক বলেন, ৪০ টাকা ভাড়ায় তাদের পোষাচ্ছিল না। তাই অগত্যা ২০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করে এখন ৬০ টাকা করে যাত্রী প্রতি আদায় করা হচ্ছে।

ঈদের পর পরই মুক্তারপুর-চাষাড়া রুটে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধিতে নিয়মিত যাত্রীদের যাতায়াতের ব্যয় বেড়ে গেল। এটা তাদের ওপর জুলুমের সামিল বলে মনে করেন। হঠাৎ করেই এই ভাড়া বৃদ্ধিতে চালকদের সঙ্গে যাত্রী সাধারণের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়ে চলছে। যাত্রী ও চালকের মধ্যে বচসা বাঁধছে প্রতিনিয়ত।

প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী মুক্তারপুর-চাষাড়া রুটে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করে থাকে। আর যাত্রী প্রতি এক লাফে ২০ টাকা বৃদ্ধি করা অন্যায় ও অনভিপ্রেত বলে মনে করছেন যাত্রী সাধারণ। তারা এর প্রতিকার দাবি করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশিদ বলেন, ভাড়া অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত রাখা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে । আমি এখনি উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েছে শুনেছি। আমাদের অগোচরেও নেওয়া হচ্ছে। বিআরটিএ এবং জেলা প্রশাসন এই বিষয়টি দেখে থাকে।

সোনালীনিউজ/

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.