ডিউটিরত কনস্টেবল অজ্ঞান সেবায় অবহেলা চিকিৎসকের

ঢাকা-মাওয়া সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণের কাজে সারাদিন ডিউটি করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন শ্রীনগর থানার পুলিশ কনস্টেবল আল মামুন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সংশ্নিষ্ট চিকিৎসক অবহেলা করে ভুল চিকিৎসা দেন। সহকর্মী পুলিশ সদস্যরা ভুল চিকিৎসার প্রতিবাদ করলে শ্রীনগরের ষোলঘর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আসাদুজ্জামান উল্টো দুর্ব্যবহার করার পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। এ অবস্থায় সোমবার কনস্টেবল মামুন মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ করে চিকিৎসক আসাদুজ্জামানের বিচার দাবি করেন।

কনস্টেবল আল মামুন জানান, ঈদের দু’দিন আগে ১৪ জুন রোজা থাকা অবস্থায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগরের সমষপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজট নিরসনে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সন্ধ্যার দিকে তার বুকজ্বালা ও পেট ব্যথা শুরুর এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এএসআই নাজমুল হক তাকে শ্রীনগরের ষোলঘর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ করে কম্পাউন্ডার ডেকে আল মামুনের একটি ইসিজি করেন এবং হার্টে মারাত্মক সমস্যা চিহ্নিত করে ঢাকার সলিমউল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

এএসআই নাজমুল হক জানান, চিকিৎসকের কথা অনুযায়ী হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে আল মামুনকে ঢাকায় নিতে চাইলেও চালকের ডেঙ্গুজ্বর হয়েছে জানিয়ে দেন চিকিৎসক আসাদুজ্জামান। বিষয়টি থানার ওসি এসএম আলমগীর হোসেনকে জানালে তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন ওই চিকিৎসক। এতে নিরুপায় হয়ে দুই ঘণ্টা পর একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে কনস্টেবল আল মামুনকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জানান, মিডফোর্ড হাসপাতালে চার দিন চিকিৎসা শেষে আল মামুনকে ছাড়পত্র দিয়ে জানানো হয়, তার হার্টে কোনো সমস্যা হয়নি। রোজা রেখে সারাদিন রোদের মধ্যে ডিউটি পালন করে ইফতার করলে তার পেটে গ্যাসজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্নিষ্ট চিকিৎসক আল মামুনকে ভুল চিকিৎসা দিয়েছেন। এতে তিনি মারাও যেতে পারতেন বলেও জানান মিডফোর্ডের সংশ্নিষ্ট চিকিৎসকরা।

অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামানের ব্যবহূত দুটি মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ব্যস্ত পাওয়া যায়। সরেজমিন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, পাঁচ মাস আগে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তিনি প্রতিবেদন জমা দেননি। সামনের সভায় আবারও এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।

সমকাল

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.