ঢাকা-মাওয়া চার লেনের কাজের অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে ঢাকার বাবুবাজার লিংক রোড থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও মাদারীপুরের পাঁচ্চর হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ।

বর্তমানে ঢাকা-মাওয়া চার লেন মহাসড়কের ৩৫ কিলোমিটারে কাজের অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

সরেজমিন দেখা যায়, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শুরু করেছে পিলারগুলো। সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বালু, পাথর। হুইল লোডারগুলো ব্যস্ত ব্রিজের কাজে। খনন কাজ করছে এক্সাভেটরগুলো (মাটি খনন যন্ত্র)। কোথাও চলছে ঢালাইয়ের কাজ। উচ্চক্ষমতার ট্রাকগুলো উপকরণ সরবরাহ করছে। সাজিয়ে রাখা হয়েছে ব্লক। এ রুটের যাত্রীরা কর্মযজ্ঞ দেখে আনন্দিত। পদ্মাসেতুর সঙ্গে সংযোগ এ মহাসড়কটি দক্ষিণ বঙ্গের ২১ জেলাকে ঢাকার সঙ্গে যুক্ত করবে।

প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর এ কাজ শুরু হয়। ধলেশ্বরী সেতু-১ এর পাইল বাকি ও পিয়ারের কাজ শেষ। একই সঙ্গে চলছে পিয়ার হেড ও গার্ডারের কাজ। ধলেশ্বরী সেতু-২ এর সব পাইলের কাজ শেষ। এছাড়া সব পাইল ক্যাপ, পিয়ার, পিয়ার হেডের কাজও শেষ। বর্তমানে গার্ডারের কাজ চলছে। আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের গার্ডারের ৪০ শতাংশ কাজ শেষ। গার্ডার নামানো হবে শিগগির। এ ফ্লাইওভারের ৩৫ শতাংশ কাজ বাকি। শ্রীনগর ফ্লাইওভারের ৯৫ শতাংশ পাইলের কাজ শেষ। লিংক রোড ফ্লাইওভারের (২.৩ কিমি) ৭৬টি পিয়ারের মধ্যে ৪৬টির কাজ শেষ। ৪৭ নম্বর পিয়ারের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। এছাড়া অধিকাংশ পিয়ারের পাইল, পিয়ার, পিয়ার হেড, গার্ডারের কাজ ধাপে ধাপে হচ্ছে। মহাসড়কের ৪৫টি কালভার্টের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ।

আরোও জানা যায়, জুরাইন রেলওয়ে ওভারপাসের পাইল ক্যাপ ও পাইলের কাজ চলছে। বর্তমানে পিয়ার, পিয়ার হেডের কাজ চলছে ও গার্ডারের কাজ শিগগির শুরু হবে। কুচিয়ামোড়া রেলওয়ে ওভারপাসের কিছু অংশে পাইলের কাজ বাকি। বর্তমানে পাইল ক্যাপ ও পিয়ার হেড, পিয়ার কাজ চলছে। একই সঙ্গে চলছে গার্ডারের কাজ। মহাসড়কের ফ্লাইওভার, কালভার্ট, ব্রিজ, সেতু, লিংক রোড, আন্ডারপাস ও ইন্টারচেঞ্জের ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন-এসডাব্লিউও(পশ্চিম)। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মহাসড়কের উদ্বোধন করবে সরকার। এটি হবে এশিয়ান হাইওয়ের করিডর-১ এর অংশ। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এটি খুলে দেওয়া হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে জুরাইন থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের কাজ সম্পন্ন হবে। ৫৫ কিলোমিটার ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ের মূল সড়কটি হবে চার লেনের। দুইপাশে দুই লেন করে থাকবে পৃথক সড়ক।

প্রকল্পের প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) কমিটির সভা সূত্রে জানা যায়, ছয় হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা বর্তমান নির্মাণ ব্যয়ে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় হচ্ছে ১২৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পের ব্যয় ১০ হাজার ৮৪ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছে প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটি।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.