খোলা চিঠি : মুন্সিগঞ্জ-০৩ আসনের সাংসদ মৃনাল কান্তি দাসের প্রতি

প্রিয়ভাজন মৃনাল দা,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নিন। পত্রের শুরুতে আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘজীবন কামনা করছি, কামনা করছি আপনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করে জনগনের মাঝে ফিরে আসবেন, জনগনের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন, আপনি সুভাগ্যবান যে আপনি উন্নয়নবান্ধব সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের একজন জনপ্রতিনিধি, মাননীয় সংসদ সদস্য হিসাবে উন্নয়নের অংশীদারও বটে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষযক সম্পাদক পদের দায়ীত্বরত। এই পদের গুরুপ্ত অপরিসীম মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে বাঙ্গালী জাতির জম্মসূত্র, ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আহবানে সারা দিযে সারা বাঙ্গালী জাতি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে, হানাদার পাকিস্তানীদের পরাজিত করে স্বাধীনতা অর্জন করে,জন্ম নেয় বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আপনার প্রতি আস্থাবান থেকে এই গুরুপ্তপূন্ন পদের দায়িত্ব আপনার উপর অর্পন করেছেন। তাছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূলদর্শন হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারন করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

আমাদের প্রিযনেত্রী মাননীয় প্রদানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আলোকে সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অতিদরিদ্র দেশের অভিশাপ থেকে দরিদ্র দেশ, দরিদ্র দেশের তকমা থেকে উন্নয়নগামী দেশ, উন্নয়নগামী দেশ থেকে সল্প উন্নতদেশ, স্বল্প উন্নত দেশ থেকে দ্বিতীয় সারীর উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনে সক্ষম হয়েছে, এতো সব সম্ভব হয়েছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিচক্ষনতা, দুরদর্শিতা এবং দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি নিরলস ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, সর্বোপরি রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা ও সততার জন্যে।

বিগত বি এন পি- রাজাকার-স্বৈরশাসক ও অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী সরকার গুলোর দুঃশাসনের ফলে বাংলাদেশকে অভাব গ্রস্থ, দুর্নীতি পরায়ন, সন্ত্রাসী, সমস্যাকুল অতিদরিদ্রতম দেশে পরিনত করেছিন, ছিল ক্ষুধা-দারিদ্রতা, ছিল না বিদ্যুত, ছিল ভঙ্গুল যোগাযোগ ব্যাবস্থা ছিল অর্থনৈতিক দৈন্য অবস্থা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল শুন্যের কোঠায় সর্বোপরি বাংলাদেশ ছিল একটি পরনির্ভরশীল দেশ, বিশ্ববাসী বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের দেশ হিসাবে অবজ্ঞার চোখে দেখতো।

আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে চলছে, আমার মামনীয প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা হলো পরশ পাথর, তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠিত সরকারের সুদক্ষ দেশ পরিচালনার ফলে মাত্র ০৯ বছরে বাংলাদেশ উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনে সক্ষম হয়েছে, লক্ষ্য ২০৪২ সালের মধ্যে দ্বিতীয় সারীর উন্নত দেশ থেকে ১ম সারীর উন্নত দেশের মর্য়াদা অর্জন করা, বাংলাদেশ হবে একটি স্বনির্ভর উন্নয়নশীল বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলাদেশ, যা সম্ভব বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার (পরশ পাথর) দীর্ঘস্থায়ী রাল্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্বদান ও অংশগ্রহনের মাধ্যমে।

আজ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সমস্যা নেই বললেই চলে, খাম্বা দেখিয়ে জনগনকে ধোকা দেওয়া হয় না,ঘন ঘন লোডসেডিং হয় না। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে, মাথা পিছু আয় ৩ শত ডলার থেকে ১৬শত ডলারে পৌছে গেছে, পদ্ধা সেতুঁ,হানিফ, রামপুরা,মগবাজার, বিমান বন্দর রোড ফ্রাইওয়ে নিম্মান, পাতাল ট্রেন, নদীর তলদেশ দিযে টিউব ওয়ে, প্রভৃতি মেগা প্রকল্প এর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে, কোনটার কাজ শেষ হওয়ার পথে, তাছাড়া মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উপগ্রহ নিক্ষেপন ও স্থাপিত, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি মহা সফলতা যা কেহ কোন দিন চিন্তাই করে নাই বরং বি.এন.পি জামাত.রাজাকার, সুধখোর ইউনুছ আর ১/১১ রুপকার তথাকথিত ভন্ড সুশিলরা প্রকল্পসমূহ যাতে বাস্তবায়ন করা না যায় সেই জন্যে পদে পদে বাধাঁ সৃষ্টি করেছে, আল্লাহর রহমতে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে কোন বাধাঁই আটকাতে পারে নাই। তাছাড়া সমুদ্র সীমার ন্যায্য দাবী আদায়, ছিট মহল বিনিময় সমস্যার ন্যায্য সমাধান, তিস্তা নদীর ন্যায্য অদিকার আদায়ে অগ্রগতি, সব কিছুতেই উন্নয়ন, অগ্রগতি আর সফলতা দৃশ্যমান,বিশ্ব আজ বাংলাদেশের এই অভাবনীয় সাফল্যে হতবাক,বিস্মৃত, বিশ্ব নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরুস্কারে শেখ হাসিনা ভুষিত করা হচ্ছে ,যাতে করে বাংলাদেশের জন্য অভাবনীয় সম্মান বহে আনছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যত দিন রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতায় থাকবেন, তত দিন এই পরশ পাথরের ছোঁয়ায় দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইবে, সত্যিই এই যে দেশের এতো উন্নয়ন অগ্রগতি তাতে আমাদের অর্থনীতিতে আচঁড়টি পযর্ন্ত পড়েনি, বরং মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ভেবেই পান না বাংলাদেশ কি ভাবে ১০ লক্ষ রোহিংগাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়ার পরও অর্থনৈতিক অবস্থার অগ্রগতি অটুক রেখেছে, এর একমাত্র উত্তর উন্নয়নের মানস কন্যা শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের জন্য আল্লারদান শেখ হাসিনা। আজ বিশ্ববাসী শেখ হাসিনাকে মানবতার কন্যা উপাধী দিয়েছেন ,উপাধী দিচ্ছেন বিশ্বের একজন সফর রাষ্ট নায়কের, বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক পুরুস্কারে পুরুস্কারে আজ বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ সমাদৃত-অভিনন্দিত, যা বাংলাদেশ বিগত শাসকরা কখনো চিন্তা করে নাই, আর এই সব পুরুস্কার অর্জন সব কিছুই শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগনকে উৎসর্গ করেছেন।

মাননীয় এম.পি মহোদয়, আপনিও দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি আর সফলতার অংশীদার,যা নিয়ে মুন্সিগঞ্জবাসী গর্ববোধ করতেই পারে, আমাদের প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা-চেতনার সফল বাস্তবায়ন,আপনার মাঝেও এর প্রতিফলন ঘটেছে, তবে এর কিছুটা দৃশ্যমান, কিছ্টা অদৃশ্যমান, কিছুটা বিপরীত ধর্মী, যা নিযে জনগনের কাছে আমাদের বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয়, সঠিত উত্তর মিলাতে পারি না। আমাদের যাতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে না হয়,যথাযথ উত্তর মিলাতে পারি সেই জন্যই আপনার কাছে আমার এই খোলা চিঠি প্রেরন।

আমাদের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা, দেশের উন্নয়ন ও জনগনের কল্যানে দেশরতœ শেখ হাসিনা সরকারের বিকল্প নাই, তাই আগামী জাতীয নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে জয়ী হতে হবে, আমাদের সকল চিন্তা-চেতনা-ভাবনা সেই লক্ষ্যেই প্রনয়ন করতে হবে।

একজন এম.পি হিসাবে আপনি সকল দলের মতের মানুষের জন্য কাজ করবেন এটা আমরাও চাই পাশাপাশি যারা আমাদের উন্নয়নের বিরোধীতাকারী, যারা দেশের এই উন্নয়নকে স্বীকার করে না, যারা আমাদের ৩০লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা-বাংলাদেশকে মানতে চান না, যারা বঙ্গবন্দুকে স্বপরিবারে হত্যা করেছে, এই হত্যাকান্ডকে সমর্থন করে,যারা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়, যারা সন্ত্রাস করে,মাদকের সাথে জড়িত,চাঁদাবাজি করে, শুধু সুবিধা নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে, আপনাকে সমর্থন করছে, তাদের আপনার পাশে মানায় না, শেখ হাসিনার একজন সৈনিক,এম.পি. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে শেখ হাসিনা সরকার এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইমেজ আপনার কর্মকান্ডের সাথে জড়িত, তাই এই কুলাঙ্গারদের আপনার পাশে দেখতে চাই না। অথচ আওয়ামী লীগের পরিক্ষিত ত্যাগী অনেক নেতাকে আপনার পাশে দেখা যায়, যেমন সাবেক ছাত্র নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এ্যাড,গোলাম মাওলা তপন,সাবেক ছাত্রলীগ,আওয়ামী লীগের নেতা ম.মনিরুজ্জামান শরীফ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের তরুন সংগঠক মনিরুজ্জামান রিপনের মতো অনেকেই আপনার পাশে আছে, তাদের আছে সংগঠন পরিচালনায় দক্ষতা-যোগ্যতা,আন্দোলন-সংগ্রামে অনন্য অবদান, তবে নেই তাদের অর্থ আর পেশীশক্তি তাই তারা আপনার পাশেও অনুজ্জল,আপনার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে তাদের তেমন ভুমিকা নেই, দুঃখজনক হলেও সত্যি তারা মেম্বার-কাউন্সিলার,জেলা পরিষদ সদস্য,চেয়ারম্যান,মেয়র কোন জনপ্রতিনিধিই হতে পারে নাই, উড়ে এসে জুড়ে পড়ার মতো আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই বা চামারের মতো মরা গরুর উপর চাকু ছুড়ে এই সমস্ত পদ বাগিয়ে নিয়েছে অদৃশ্য কারনে।

আপনি একজন পরিক্ষিত আওয়ামী লীগ নেতা, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুর চীফ সিকিউরিটি অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন এর পাশে থেকে ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্বদান করেছেন, দীর্ঘজীবন বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সোচ্চার থেকেছেন, জেল-জুলুম-অন্যায়-অত্যাচার কোন কিছুই আপনাকে আদর্শচ্যৃত করতে পারে নাই, আওয়ামী লীগ,বঙ্গবন্ধু,নৌকা আর শেখ হাসিনাই আপনার রাজনীতির মূলমন্ত্র, সুখে-দুঃখে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ছায়া তলে ছিলেন এবং এখনও অতন্ত্র প্রহরীর মতো আছেন এই বিষয় আমার বিন্দু মাত্র দ্বিমত নাই।

তাই একজন আওয়ামী লীগ কর্মি-সমর্থক হিসাবে আপনার প্রতি আমাদের আশা আকাঙ্খা অনেক বেশী, আওয়ামী লীগের তৃনমূল নেতা-কর্মি-সমর্থকরা আপনার কাছে চাওয়া পাওয়ার নেই,পেতে চান যথাযথ মূল্যায়ন।

আপনারা যখন ভোটের আশায় একজন রাজাকার,একজন বি.এন পি সন্ত্রাসী,মাদক ব্যবসায়ী, বঙ্গবন্ধুর খুণীর সমর্থকদের আপনার ছায়াতলে আশ্রয় দেন, জনপ্রতিনিধি বানান, কাজের ভাগবাটোয়ারা দেন,আওয়ামী লীগ নেতা বানান, তখন কিন্তু অভাগা আওয়ামী লীগের এই কর্মি সমর্থকদের বুক ফেটে যায়, কিছু বলার শাহস পান না, কারন এই সুবিধাবাদীদের আছে অর্থ আর পেশীশক্তি আপনাদের পাশে থেকে অশুরের শক্তিতে বলিয়ান- তাদের বাহিনীকে হুকুম করবে, জয় বাংলা শ্লোগার দিবি আর আওয়ামী লীগের শুয়রের বাচ্চাদের রাম ধুলাই দিবি। সারা দেশে এমন অজস্র উদাহরন আছে।

এই সুবিধাবাদীরা কিনতু কখনও নৌকা মার্কায় ভোট দিবে না, নৌকার ভরসা কিন্তু ঐ হতভাগ্য আওয়ামী লীগের আন্দোলন সংগ্রামের রাজপথের সৈনিক আর ক্ষমতার সময়ের অবহেলিত লাঞ্চিত অপমানিত অসহায় কর্মি সমর্থকবৃন্দ।

মাননীয় এম.পি মহোদয়, আপনি মুন্সিগঞ্জ ০৩ আসনের সংসদ সদস্য,গজারিয়া-মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মানুষের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসাবে এলাকার জনগনকে সর্বোচ্চ সেবাদান নিশ্চিত করাই আপনার লক্ষ্য, সেই লক্ষ্যেই সরকার থেকে যতবেশী সুযোগ সুবিধা আদায় করে আনতে পারবেন,এলাকার জনগন ততবেশী উপকৃত হয়।

আবার আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হয় সম্পদের সুষ্ট বিতরন, এই বিষয় সমূহ গোপন না রেখে আপনার দ্বারা সকল কাজের ফিরিস্তি প্রকাশ করা হলে জনগনই ন্যায্য অধিকার আদায় করে নিতে পারবে, চাটার দলরা বেশী চাটতে পারবে না- আপনার কাজের স্বচ্ছতা প্রকাশ পাবে, কারন সব কিছু অন্ধকারে রাখলে সন্দেহের জম্ম নেয়, আর অন্ধাকারে সাপের ছোবল মারতে সুবিধে হয়, আশা করি বিগত সাড়ে চার বছরের কাজের ফিরিস্তি(কত টাকার কাজ বা বরাদ্ধ কার মাধ্যমে হয়েছে) প্রকাশ করলে আওয়ামী লীগ উপকৃত হবে, আমরা নির্বাচনী মাঠে প্রতিপক্ষের জবাব বুক ফুলিয়ে দিতে পারবো।

শ্রদ্ধেয মিনাল দা, আপনার নির্বাচিত এলাকায় আপনি বিগত সাড়ে চার বছর প্রচুর উন্নয়নমুলক কাজ করেছেন, কোনটা দৃশ্যমান, কোনটা প্রচার না থাকায় অদৃশ্যই থেকেছে, একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে আপনি নিজের বরাদ্ধের পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ ঠিকমতো হয় কিনা সেই বিষয় নজরধারী করাও আপনার কাজের আওতাভুক্ত। তাছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান-মেয়র সরকারী বরাদ্ধ বা জনগনের ট্যাক্সের টাকা সঠিকভাবে ব্যয় করে কিনা সেই বিষয় জনগনের পক্ষে দেখাশুনা করাও আপনার নৈতিক দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।

আমাদের সমাজে একটা কথার রেওয়াজ আছে, সব ভাত টিপকে হয় না,হাড়ির একটা ভাত টিপলেই হাড়ির সব ভাতের খবর নেওয়া যায়, আমি না বললেও নিন্দুকেরা আমাদের উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমনই বলবে, যেমন রিকাবী বাজার থেকে দয়াল বাজার,মুক্তারপুর বাসষ্টেন,মুন্সিগঞ্জ ও রিকাবৗ বাজার মুক্তারপুর ফেরীঘাট,মুন্সিগঞ্জ রোড খুবই জন গুরুপ্তপূন্ন, দীর্ঘদিন যাবত ধলেশ্বরী পাড় ঘেষে রোডটি ও দয়াল বাজার মুক্তারপুর বাসষ্টেন রোডটির বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও খানা খন্দে ভর্তি, বৃষ্টির পানি জমে একাকার, প্রতিদিন রিস্কা,অটো রিস্কা দুর্ঘটনায় পতিত হয়, যাত্রীরা নানানজন নানারকম বিরুপ মন্তব্য করে, যা শোনে আমাদের নিরব থেকে হজম করতে হয়। এই বিষয় বিভিন্ন পত্রিকায় ও অনলাইন পত্রিকা মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডট কম ও মুন্সিগঞ্জ ডট কম-এ একাধীকবার সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে কিন্তু কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই। তাছাড়া মিরকাদিম পৌর এলাকার কাটপট্রি ঘোদারা ঘাট(পঞ্চসার মৌজা ভুক্ত) যাত্রী নির্যাতনের একটিসেল বলা চলে, ৫/১০ কে.জি মাল বহন করলে জোর পূর্বক যাত্রীর কাছ থেকে ৫০/৬০ টাকা কেড়ে নেওয়া হয়, নৌকা ভাড়া ৩ টাকার পরিবর্তে ৫/১০/২০/৫০/১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়, কোন যাত্রী প্রতিবাদ করলে মারধোর.গালাগালি অপমান অপদস্ত করা হয়। মুন্সিগঞ্জ,নারায়নগঞ্জ,ঢাকা রোড়ের চর সৈয়দপুর এলাকার রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য, ক্রাউন-শাহ সিমেন্টের বড় বড় ট্রাকগুলো রাস্তার উপর পার্কিং করা হয়, এলাকাটি আপনার নির্বাচনী এলাকাভুক্ত না হলেও আপনার নির্বাচনী এলাকার বহু লোক এই পখে ঢাকা,নারায়নগঞ্জসহ দেশের বিভিন্নস্থানে যাতায়াত করে।

আসলে শরীলের কোন এক স্থানে ক্যানসার জম্ম নেয়,যথা সময় চিকিৎসা না হলে, এই ক্যানসার শরীলের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, যার পরিনতি মৃত্যু। কাড়ি ভর্তি দুধের মধ্যে এক ফোটা টক পড়লে যেমন কাড়ির সব দুধ নষ্ট হয়ে যায়,তেমন যে কোন একটি কাজের অবহেলা আগামী জাতীয় নির্বাচন ও আমাদের উন্নয়নমুলক কাজে বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে।

মাননীয় এম.পি মহোদয়, আপনাকে এবং আমাদেরকে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার জন্য জনগনের কাছে যেতে হবে,যাতে করে কোন ভোটারের বিরুপ প্রশ্নের মুখামুখি হতে না হয় তাই এইসব ছোট ছোট জনগুরুপ্তপূন্ন কাজসমূহ অগ্রাধিকার ভিক্তিতে করার অনুরোধ করছি, আপনি দৃশ্যমান উদ্দ্যোগ নিন, এলাকার জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহীতার আওতায় আনেন,যদি কাহারো জন্য উন্নয়ন কর্মকান্ড বাঁধাগ্রস্থ্য হয় আমরা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবো, জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকাররের উন্নয়নে বাঁধার সৃষ্টি করে পার পেয়ে যাবে, এমন শক্তিধর আওয়ামী লীগে কেহ আছে বলে মনে হয় না। শুধু আমাদের সদইচ্ছার প্রয়োজন। আমার জানা মতে আপনার সদইচ্ছার কোন ঘারতি নাই। পরিশেষে পত্রে ভুলত্রুটি মার্জনীয়। আবারও আপনার সুস্থ্যতা-দীর্ঘজীবন ও সফলতা কামনা করে শেষ করছি।

লেখকঃ-
বীরমুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহাম্মদ
সম্পাদক
চেতনায় একাত্তর

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.