শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যার ঘটনাটিই মুন্সীগঞ্জের প্রথম জঙ্গি হামলা

প্রকাশক ও মুক্তচিন্তার লেখক শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যার ঘটনাটি ছিল মুন্সীগঞ্জে কোনও জঙ্গি সংগঠনের প্রথম হামলা। এর আগে জঙ্গিরা মুন্সীগঞ্জের কোনও এলাকায় কোনও ধরনের হামলা বা আক্রমণ চালাতে পারেনি। এমনকি ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলায় ৫০০টি পয়েন্টে একই সময়ে বোমা হামলা চালালেও মুন্সীগঞ্জে বোমা হামলা করতে পারেনি। কিন্তু, গত ১১ জুন নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি সংগঠনের চার সদস্য লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে তাঁর নিজ গ্রাম সিরাজদিখান থানার কাকালদী এলাকায় গুলি করে হত্যা করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, ‘শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যার আগে মুন্সীগঞ্জে জঙ্গিরা কোনও হামলা করতে পারেনি। তাই বলা যায়, মুন্সীগঞ্জে ‘অন দ্য গ্রাউণ্ড’ জঙ্গিদের এটাই প্রথম হামলা।’

এদিকে, শাহজাহান বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে পুলিশের চিহ্নিত আসামি আব্দুর রহমান ওরফে লালু, সাঈদ, আক্কাস, কাওসার (৩৪) গত ২৭ জুন পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। এরপর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, শাহজাহান বাচ্চুর হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেফতার করতে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ, অ্যান্টি টেররিজিম ইউনিট, পুলিশ হেডকোয়াটার্স ইন্টিলিজেন্স উইং, বগুড়া জেলা পুলিশ এবং গাজীপুর জেলা পুলিশ টিমের সহায়তায় গাজীপুর জেলা থেকে আব্দুর রহমানকে আটক করা হয়। পুলিশ তার কাছ থেকে ২টি ৭.৬৫ পিস্তল, ২১ রাউন্ড গুলি ও চারটি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে শাহাজাহান বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করে। পুলিশের দাবি, ওই জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকা বিভাগের জেএমবির সামরিক কমান্ডার থাকার কথাও স্বীকার করে আব্দুর রহমান।

জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের তিন মাস আগে গাড়িচালক পরিচয় দিয়ে সিরাজদিখান থানার খাসমহল বালুচর গ্রামের প্রবাসী ইয়াকুব আলির বাসা ভাড়া নিয়ে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। এ হত্যাকাণ্ডের মূল যে অভিযুক্ত সে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে। বাকি তিনজনকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে পুলিশ আশাবাদী।

উল্লেখ্য, শাহজাহান বাচ্চু বিশাকা প্রকাশনী নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ছিলেন ও জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ‘আমাদের বিক্রমপুর’ নামে একটি অনিয়মিত সাপ্তাহিক পত্রিকারও তিনি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি করতেন তিনি। ছাত্র জীবনে শাহজাহান বাচ্চু ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। পরে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং ২০১২-২০১৪ সময়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা সিপিবি এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু, পরবর্তীতে তিনি পার্টির কোনও পদে ছিলেন না।

তানজিল হাসান
বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.