শ্রীনগরে খালের উপর দুইটি কাঠেরপুল ভেঙ্গে দেওয়া হল, দুর্ভোগে ৮ গ্রামের বাসিন্দা

মঈনউদ্দিন সুমন: বালুবাহী নৌযান চলাচলের জন্য মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘরে খালের উপর পৃথক দুইটি কাঠেরপুল ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের লোকজন বালুবাহী বাল্কহেড ও কোস্টার বডি চলাচলের জন্য কাঠেরপুল ভেঙ্গে দিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

কাঠেরপুল ভেঙ্গে দেওয়ায় একদিকে ষোলঘর ইউনিয়নের ৮ গ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগে চরমে পৌঁছেছে। জীবনের ঝুকি নিয়ে নৌকায় করে খাল পাড়ি দিচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীসহ অসুস্থ রোগিদের জরুরি প্রয়োজনে খাল পারাপার হতে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

অপরদিকে কাঠেরপুল ভেঙ্গে খালের বুকে দিব্যি চলছে বালুবাহী নৌযান। বালু ব্যবসায় প্রসারিত করেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। পুরোদমে তারা চালিয়ে যাচ্ছেন বালুর ব্যবসা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ষোলঘর সিংহের মাঝিপাড়া, পুরোহিত পাড়া, জজবাড়ী, সদারামপুর, সমষাবাদ, চকেরপাড়া, আরধীপাড়া ও মুন্সীরহাটি গ্রামের পাঁচ হাজার বাসিন্দা কাঠেরপুলের উপর দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। এই বর্ষা মৌসুমে কাঠেরপুল দুইটি বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের লোকজন ভেঙ্গে দেওয়ায় বিশাল ওই জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের জন্য এখন ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে খেয়া নৌকা।

স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসীর নানা কাজের জন্য যাতায়াতের ক্ষেত্রে এখন বাধ্য হয়েই নৌকায় করে খাল পাড়ি দিচ্ছে। প্রতিদিন খেয়া পারাপারে লোকজনের ব্যয় হচ্ছে বাড়তি অর্থ। তাছাড়া মাঝে মধ্যে ঘটছে নৌকা ডুবির ঘটনা। একদিকে দিন দিন বাড়ছে বর্ষায় পানি।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর কাঠের পুল দুইটি ভেঙ্গে বালু সিন্ডিকেট চক্র রমরমা বালু বাণিজ্য করলেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম দেখেও না দেখার ভান করছেন।

জানা গেছে, যায়, বাল্কহেড ও বালুবাহী কোস্টার বডি প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে পকেট ভারী করেছেন ষোলঘর ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোহাম্মদ আলী ও রফিক মেম্বার। ভূক্তভোগী সিংহের মাঝিপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন ও সমষাবাদ গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মাদবর বলেন, বর্ষার পানি আসলেই ৫ মাসের জন্য পুল ভেঙ্গে দেয় বালু সিন্ডিকেট চক্র। গ্রামের কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বিভিন্ন মামলা ও হামলার ভয় দেখায় সিন্ডিকেট চক্র। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমি বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। আল্লাহর রহমতে আমার অনেক ব্যবসা রয়েছে। কাঠের পুল আমি ভেঙ্গেছি, আবার আমি করে দিব। এটি ভাঙ্গা হয়েছে ষোলঘর ইউনিয়নের ভবনের নির্মান কাজে বালু আনার জন্য। আগামী ১০ দিনের মধ্যে পুল হয়ে যাবে। উভয় পাড়ে নৌকা খেয়া পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে পুল ভাঙ্গা হয়েছে ।

আরেক প্রশ্নে উওরে বলেন, ‘আগের বছর পুল ভাঙ্গা হয়েছে পুলিশ প্লাজায় পুকুর ভরাটের জন্য। পরে আমি নিজ টাকায় পুল ঠিক করে দিয়েছিলাম।’

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম জানান, ‘একটি আবেদন পাওয়া গেছে। আমি উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে দিয়েছি।’

জুম বাংলা

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.