অবৈধ স্পিডবোটে পদ্মা পারাপার অহরহ দুর্ঘটনা

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে ৪ শতাধিক স্পিডবোট চলছে। মালিক ও চালকরা সরকারি নির্দেশনাকে অমান্য করে বছরের পর বছর ধরে স্পিডবোট চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি নির্দেশনায় প্রতিটি যাত্রীর জন্য লাইফ জ্যাকেট ও বয়া বাধ্যতামূলক থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এ ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং সন্ধ্যার পর চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেই খরস্রোতা পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছে স্পিডবোটগুলো। এমনকি স্পিডবোট চালকদের নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স, নেই রেজিস্ট্রেশন। আলোকবাতি ও হর্নও নেই অবৈধ স্পিডবোটগুলোতে।

এ ছাড়া যাত্রীপ্রতি ১২০ টাকা ভাড়া হলেও ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, কখনও ২০০ টাকাও স্পিডবোটে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে অবৈধ স্পিডবোট চলাচল অব্যাহত থাকায় এ নৌরুটে প্রায়ই ঘটছে স্পিডবোটডুবির ঘটনা। এতে অনেক প্রাণহানির পাশাপাশি নিখোঁজের ঘটনা ঘটছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার সকালে লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীতে স্পিডবোট উল্টে সুফিয়া খাতুন নামে এক ইউপি সদস্য মারা গেছেন। এ ছাড়া নিখোঁজ আছেন জালাল সর্দার নামে আরও একজন। গতকাল রোববার সকালে ফেরির সঙ্গে ধাক্কা লেগে যাত্রীবাহী ওই স্পিডবোটটি উল্টে যায়। এ সময় এতে থাকা ২৪ যাত্রী কোনোমতে পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও, সুফিয়া খাতুন ও জালাল সর্দার তলিয়ে যান। পরে লৌহজং থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তল্লাশি চালিয়ে সুফিয়া খাতুনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। সুফিয়া খাতুন মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাঁষাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। তার স্বামীর নাম সেলিম শেখ। নিখোঁজ জালাল সর্দার শ্রীনগর উপজেলার কেওয়াটখালী গ্রামের বাবর আলী সর্দারের ছেলে।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী-মাঝিকান্দি নৌরুটে ৪ শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করে। সেগুলো বড়, মাঝারি ও ছোট- এই তিন ধরনের। এর মধ্যে ২২০টি স্পিডবোটের মালিক মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার এবং বাকি ১৮০টি স্পিডবোটের মালিক মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি, কাঁঠালবাড়ী ও শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি এলাকার। ঘাট সংশ্নিষ্টরা জানান, নৌরুটের বড় স্পিডবোট ২০ জন ধারণক্ষমতা হলেও যাত্রী নিচ্ছে ২৮ জন, ১৫ জন ধারণক্ষমতার মাঝারি স্পিডবোটে ২২ জন এবং ছোট স্পিডবোটের ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১০ জনের স্থলে পারাপার করা হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ জন। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে শিশু যাত্রী নিয়েও স্পিডবোট দিয়ে পদ্মা পারাপার হচ্ছেন দক্ষিণের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে প্রচণ্ড স্রোত প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে পদ্মায়। এর মধ্যেই স্পিডবোটগুলো চলাচল করছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মায় প্রচণ্ড গতিবেগে স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় তার বিপরীতে চলতে ব্যর্থ হচ্ছে ডাম্ব ও ছোট ফেরিগুলো। বর্তমানে মূল পদ্মা উত্তাল হয়ে উঠেছে। তারপরও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যেই চলাচল করছে স্পিডবোটগুলো।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী-মাঝিকান্দি নৌরুটে চলাচলরত স্পিডবোটগুলো অবৈধভাবে বহু বছর ধরে চলাচল করছে। এই স্পিডবোটগুলোর নেই কোনো রেজিস্ট্রেশন। এমনকি স্পিডবোট চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া বন্দর কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, রোববার সকালে স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ যাত্রীর সন্ধান বিকেল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সমকাল

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.