একটি কাটা পা ও এক হাজার টাকা

মো. মাসুদ খান: ঘটনাস্থল মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া পুরাতন ফেরি ঘাট এলাকা। বুধবার সকাল ১০টায় খবর এলো মাওয়া পুরাতন ফেরি ঘাটে কার যেন কাটা পা পড়ে আছে! নজরে এসেছিল পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ পাহারাদানকারী টহল দলের। তারা খবর দেয় মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িকে। সেখান থেকে খবর আসে লৌহজং থানায়। মোটর সাইকেলে করে ঘটনাস্থলে ছুটলেন লৌহজং থানার এসআই হাফিজুর রহমান; সঙ্গে নিলেন ‘বডি ব্যাগ’ যাতে করে লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি কর্তিত পাটি দেখার আগেই নৌ ফাড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. আরমান হোসেনের কাছে মোটামোটি ঘটনা জানলেন। তার পর শুরু সুরতহাল!

একটি পলিথিনের ব্যাগে রাখা ছিল পায়ের গিরার নীচ থেকে কাটা সেই পা। চোখে পড়ল ইনজেকশনেরও একটি শিশি। এসআই হাফিজুর এবার ভালো করে খেয়াল করে দেখেন সেই পায়ে অনেকগুলা সেলাইয়েরও চিহ্ন! তাঁর মনে হলো, আরে এতো ডাক্তারি কেইস! ভাবলেন, সুরতহাল করে থানায় এসে সিনিয়র স্যারদের সঙ্গে আলাপ করেই ব্যবস্থা নেবেন। সুরতহাল পর্ব শেষ করে এবার উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে সাক্ষ্য গ্রহণের পালা। তখনই একজন জানালেন, পাশের গ্রামেরই ৬০ বয়সি একজন ডায়াবেটিসের রোগির পা হোঁচট খাওয়ার পর ঘা হয়ে পঁচন ধরে যায়। হাসপাতালে পা কেটেই ফেলে দিতে হয়। কিন্তু হাসপাতালের ক্লিনারদের দাবি, এই কাটা পা তারা ফেলবেন, তবে এক হাজার টাকা লাগবে। রোগীর মর্মাহত, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ঢাকা থেকে কাটা পা বয়ে নিয়ে আসেন এলাকায়। তারপর বাড়ির পাশের লৌহজং-মাওয়া পুরাতন ফেরি ঘাট সংলগ্ন পদ্মায় ছুঁড়ে ফেলেন।

অনুসন্ধানের এই পর্যায়ে পদ্মার তীরে হাজির হন লৌহজং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাজিব খান। তিনি সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানান, যার পা তাঁর স্বজনদের আসতে হবে এবং কতির্ত পা’টি মাটিচাপা দিতে হবে। আর এভাবেই সমাপ্ত হয় লৌহজংয়ের দক্ষিণ মেদিনী মণ্ডল গ্রামের ডায়েবেটিসের এক রোগীর কেটে ফেলা পা নিয়ে মর্মান্তিক ঘটনার।

থানা থেকে ঘটনা তদন্তে যাওয়া এসআই হাফিজুর রহমান বলেন, পায়ের কাটা অংশ তারা পদ্মায় ফেলে দিয়ে ভাবছিল ল্যাঠা চুকে গেছে। কিন্তু তাদের একটু অসচেতনতার জন্য আমাদের অনর্থক সময়ক্ষেপণ হলো, জনমনেও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

কালের কন্ঠ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.