ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঁচ শতাধিক স্পিডবোট

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট
শেখ মোহাম্মদ রতন: রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের মূল প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট। সরকারি নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে এ রুটে বছরের পর বছর ধরে পাঁচ শতাধিক স্পিডবোট চলছে। প্রতিটি যাত্রীর জন্য লাইফ জ্যাকেট ও বয়া বাধ্যতামূলক থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এ ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং সন্ধ্যার পর চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা না মেনে খরস্রোতা পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছে স্পিডবোটগুলো। এমনকি স্পিডবোট চালকদের নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স, নেই রেজিস্ট্রেশন। আলোকবাতি ও হর্নও নেই অবৈধ স্পিডবোটগুলোতে।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী-মাঝিকান্দি নৌরুটে পাঁচ শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করে। সেগুলো বড়, মাঝারি ও ছোটÑএই তিন ধরনের। এর মধ্যে ২২০টি স্পিডবোটের মালিক মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার এবং বাকি ১৮০টি স্পিডবোটের মালিক মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি, কাঁঠালবাড়ী ও শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি এলাকার।

ঘাটসংশ্লিষ্টরা জানান, বড় স্পিডবোটে ২০ জনের ধারণক্ষমতা থাকলেও যাত্রী নেওয়া হচ্ছে ২৮ জন, ১৫ জন ধারণক্ষমতার মাঝারি স্পিডবোটে ২২ জন এবং ছোট স্পিডবোটের ধারণক্ষমতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ জনের স্থলে পারাপার করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ জন। এরই মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে শিশুযাত্রী নিয়েও স্পিডবোট দিয়ে পদ্মা পারাপার হচ্ছেন দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা। এ ছাড়া যাত্রীপ্রতি ১২০ টাকা ভাড়া হলেও ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, কখনও ২০০ টাকাও আদায় করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে এ নৌরুটে প্রায়ই ঘটছে স্পিডবোটডুবির ঘটনা। এতে অনেক প্রাণহানির পাশাপাশি নিখোঁজের ঘটনাও ঘটছে। গত রোববার সকালে লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীতে স্পিডবোট উল্টে সুফিয়া খাতুন নামে এক ইউপি সদস্য নিহত হন। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন জালাল সর্দার নামে আরও একজন। ফেরির সঙ্গে ধাক্কা লেগে যাত্রীবাহী ওই স্পিডবোটটি উল্টে যায়। সুফিয়া খাতুন মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাঁষাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। তার স্বামীর নাম সেলিম শেখ। নিখোঁজ জালাল সর্দার শ্রীনগর উপজেলার কেওয়াটখালী গ্রামের বাবর আলী সর্দারের ছেলে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে প্রচণ্ড স্রোতের সঙ্গে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে পদ্মায়। এর মধ্য দিয়েই স্পিডবোটগুলো চলাচল করছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। এক সপ্তাহ ধরে পদ্মায় প্রচণ্ড স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় চলতে ব্যর্থ হচ্ছে ডাম্ব ও ছোট ফেরিগুলো। বর্তমানে মূল পদ্মা উত্তাল হয়ে উঠেছে। তারপরও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যেই চলাচল করছে স্পিডবোটগুলো।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী-মাঝিকান্দি নৌরুটে চলাচলরত স্পিডবোটগুলো অবৈধভাবে বহু বছর ধরে চলাচল করছে। এই স্পিডবোটগুলোর নেই কোনো রেজিস্ট্রেশন। এমনকি স্পিডবোট চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া বন্দর কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, গত রোববার স্পিডবোটডুবির ঘটনায় নিখোঁজ যাত্রীর লাশ এখনও না পাওয়ায় পদ্মার পারে নিখোঁজের খোঁজে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

শেয়ার বিজ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.