দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে জাপান শাখা আওয়ামী লীগ

রাহমান মনি: দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাপান শাখা এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

৮ জুলাই ২০১৮ রোববার টোকিওর কিতা সিটি আকাবানে বুনকা সেন্টার (বিভিও হল) এ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাপান শাখার সভাপতি সালেহ মো. আরিফ। মঞ্চে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হিরা, সিনিয়র সহসভাপতি সনত কুমার বড়–য়া, সহসভাপতি বাদল চাকলাদার।

দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (এমপি) উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন, নিজ সংসদীয় এলাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এবং রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় শেষ পর্যন্ত তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।

তিনি আলোচনা সভা শুরুর প্রাক্কালে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইচ্ছা সত্ত্বেও উপস্থিত হতে না পারার কারণে দলের নেতাকর্মী এবং উপস্থিত সকলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, আমার ইচ্ছা এবং সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও নিজ এলাকা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থাকায় আমি আপনাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে শরিক হতে না পারায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ৬৯ বছরের পথ চলাটা মসৃণ ছিল না। রাজপথে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আজকের এই অবস্থানে। আজ আওয়ামী লীগের নিজস্ব একটি ভবন হয়েছে। সেই ভবনে বসে আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি। এটাও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম একটি বড় অর্জন।
ভিডিও কনফারেন্স এ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নেতাকর্মীরাও আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর তনয়া দেশরতœ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থেকে উন্নয়নের কাজে অংশীদার। জাপানেও আপনারা আরিফ-হিরাদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে নেত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করবেন বলে আমি আশা করি। শিগগিরই আমি জাপান আসার আশা করি। তখন আপনাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে।

পরে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

সহসভাপতি জাকির হোসেন জোয়ারদারের পরিচালনায় দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্যে বক্তব্য রাখেন সুখেন ব্রহ্ম, নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, আবদুর রাজ্জাক, গোলাম মাসুম জিকো, মো. মিজানুর রহমান, মাসুদ পারভেজ, চৌধুরী সাইফুর রহমান লিটন, কাজী ইনসানুল হক, মোল্লা মো. আলমগীর হোসেন, মোল্লা অহিদুল ইসলাম, ডা. শাহরিয়ার এম শামস, মো. মাসুদুর রহমান (সাংগঠনিক সম্পাদক), মো. ফারুক আহমেদ, বাদল চাকলাদার, সনত কুমার বড়–য়া, খন্দকার আসলাম হিরা, সালেহ মো. আরিফ প্রমুখ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বাংলার মানুষের মুক্তি আর অধিকার আদায়ের জন্য গঠিত হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। পুরান ঢাকার স্বামীবাগের ১৫০ নম্বর মোগলটুলির বিখ্যাত রোজ গার্ডেনে এ দলটির জন্মলাভের মধ্য দিয়েই রোপিত হয়েছিল বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ। বঙ্গবন্ধু-আওয়ামী লীগ-স্বাধীনতা এই তিনটি শব্দ অমলিন, অবিনশ্বর। ইতিহাসে এই তিনটি শব্দ একই সূত্রে গাঁথা। গৌরব ও ইতিহাসের নানা বাঁক পেরিয়ে আজ ৭০ বছরে পা দিয়েছে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী আর বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগ।

১৯৪৯ সালের এদিনে প্রতিষ্ঠিত এ দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এদেশের গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়।

তারা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের অন্যতম পুরনো, অসাম্প্রদায়িক, সর্ববৃহৎ ও বাঙালির জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল। আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের গড়ার কাজ প্রথম শুরু করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন দলটি আত্মপ্রকাশের ছয় বছরের মাথায় দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে দেয়া হয়, উদ্দেশ্য দলে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িকতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।

’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুবের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ’৬৪-এর দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন ও ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২৪ বছরের আপসহীন সংগ্রাম-লড়াই এবং ১৯৭১ সালের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ তথা সশস্ত্র জনযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের ফসল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

যে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয় আওয়ামী লীগের তরফ থেকে সেটাকেই মনে করা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম একটি পদক্ষেপ। এরপর ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের ভূমিকা দলটিকে এই অঞ্চলের একক বৃহৎ রাজনৈতিক দলে পরিণত করে ফেলে, আর শেখ মুজিবর রহমান পরিণত হন দলের অবিসংবাদিত নেতায়। এর সঙ্গে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা যুক্ত হওয়ায় শেখ মুজিব আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বলা হয় সেই জনপ্রিয়তাই সত্তর সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিপুল বিজয় এনে দেয়।

তারা আরো বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস, বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ও সংগ্রামের ইতিহাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ বাঙালি জাতির যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন, তার মূলে রয়েছে জনগণের এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব। জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস জনগণ, শক্তির উৎস সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ দেশের সকল গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল আন্দোলনের সাহসী মিছিলের নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জনগণের ভেতর থেকে উত্থিত একটি প্রগতিশীল সংগ্রামী রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ হচ্ছে সমাজের অগ্রসর চিন্তা-চেতনা, আদর্শ, লক্ষ্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রবাহিনী। নেতাকর্মীদের ইস্পাতদৃঢ় মনোবল এবং ঐক্যবদ্ধতার ফলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হয়নি, কোনোদিন হবেও না। আওয়ামী লীগের নিযুত নেতাকর্মীরা আজ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।

বক্তারা বলেন, সাত দশকের লড়াই-সংগ্রামের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। আওয়ামী লীগের অর্জিত সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলার জনগণ বিশ্বাস করে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

তারা আরও বলেন, আমাদের প্রানপ্রিয় নেত্রী, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, জননেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে সফলতার নতুন পথ দেখিয়েছেন, দেশের টাকায় পদ্মাসেতু নির্মাণ শুরু করার সুবাদে বাংলাদেশের মর্যাদা আন্তর্জাতিকভাবে সৃষ্টি করেছে এবং আমরা মর্যাদাশীল জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছি।সভাপতি সালেহ মো. আরিফের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলকে নিয়ে কেক কেটে ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে স্মরণীয় করে রাখা হয়।

উত্তরণ বাংলাদেশ কালচারাল গ্রুপ পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন গ্রুপের সিনিয়র সদস্য, প্রাক্তন লিডার মো. ফজলুল হক রতন। উত্তরণ ছাড়াও জাপান আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক ও মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা শাম্মী বাবলী এবং শিশুশিল্পী তনুতা ঘোষ সংগীত পরিবেশন করেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করা হয়। এসময় উত্তরণের নিয়মিত শিল্পী বাচ্চু দত্ত, মান্না চৌধুরী, বিশ্বজিত দত্ত বাপ্পা এবং পাপ্পু যন্ত্রে সহযোগিতা করেন।
rahmanmoni@kym.biglobe.ne.jp

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.