নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সীমানায় বেপরোয়া সামেদ আলী বাহিনী

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলেই দেয় বাড়িঘরে আগুন
নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ফতুল্লার আকবরনগরের প্রভাব বিস্তারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে একাধিক মামলার আসামি সামাদ আলী। তার বাহিনীর ভয়ে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ আতংকে দিন কাটাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সামাদ আলীর বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই তার বাড়ি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। চালানো হয় ব্যাপক লুটপাট।

একইসঙ্গে হতে হয় চরম হয়রানির শিকার। নানা কৌশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়েও এলাকাবাসীকে হয়রানী করা হয়।

রফিকুল ইসলাম নামে এক যুবক জানান, আকবরনগর এলাকার কিছু অংশ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখান ও অধিকাংশ পরেছে ফতুল্লায়। এ এলাকায় ইট খোলা রয়েছে কয়েকটি। এসব খোলায় চাঁদাবাজীতে মেতে উঠেছে সামাদ আলী। এতে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। আবার অনেকেই ইট খোলা রেখে আত্মগোপন করেছে। ওইসব ইটখোলা এখন সামাদ আলীর দখলে রয়েছে।

রফিকুল ইসলাম নামে এলাকার আরেক যুবক জানান, চাঁদাবাজীর প্রতিবাদ করায় সামাদ আলী, তার স্ত্রী নাছিমা বেগম, তাদের ছেলে আ. গনি, আরিফ, রাজিব ও হৃদয়সহ বাহিনীর প্রায় শতাধিক লোকজন নিয়ে ফতুল্লা অংশে আলী হোসেন নামে এক ব্যক্তির আকবরনগরের বাড়িতে হামলা চালায়।

এসময় তারা ওই ব্যক্তিসহ আশপাশের ৬টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা হয়েছে।

চাঁন মিয়া নামে এক কৃষক জানান, গত বছরের ১৮ মে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সিরাজদীখান থানার অংশে আকবরনগরে আকলিমা বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে দলবল নিয়ে হামলা চালায় সামেদ আলী। এসময় ওই বাড়ির লোকজনদের ব্যাপক মারধর করে ৩৫টি গরু লুট করে নিয়ে যায় তার লোকজন।

এঘটনায় সিরাজদীখান থানায় মামলা হয়েছে। সামেদ আলী ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে কিন্তু পুলিশ তাদের কিছুই বলেনা। এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করলেই তার বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়।

ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আকবরনগরের জয়নাল আবেদীন ও ফজর আলীর বাড়িতে দলবল নিয়ে হামলা চালায় সামেদ আলী। এসময় তারা ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে বাড়ির লোকজনদের মারধর করে দুইটি গরু নিয়ে যায় এবং বাড়িতে আগুন দিয়ে ঘর পুড়িয়ে দেয়। প্রতি মাসে এভাবে একাধিক ঘটনা ঘটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে সামেদ আলী। বর্তমানে আকবর নগরের কয়েক হাজার মানুষ সামেদ আলীর আতংকে দিন কাটাচ্ছে। তার ছেলেরাও দলবল নিয়ে প্রকাশ্যে টেটা, চাপাতি ও বিদেশী পিস্তল নিয়ে ঘুরে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সামেদ আলী যুগান্তরকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ৫ বছরেও কোন মামলা হয়নি। আমি এলাকার শান্তি ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করি। রহিম হাজী নামে এক ব্যক্তি এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

রহিম হাজী যুগান্তরকে জানান, আমি ব্যবসায়ী। সামেদ আলীর কাছে ২৫ লাখ টাকা পাই। পাওনা টাকার জন্য তাগাদা দিলে আমাকে ও আমার আত্মীয় স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে নানা ভাবে হয়রানি করে।

তিনি আরো জানান, সামেদ আলী ও তার স্ত্রী সন্তানসহ তাদের বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী, লুট, মারধর এবং সাধারণ মানুষের বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে সিরাজদীখান ও ফতুল্লা থানায় গত বছরের শেষের দিক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০/১৫ টি মামলা হয়েছে। এখনো সামেদ আলী ও তার বাহিনীর ভয়ে অনেকেই বাড়ি ঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে। আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ চাই।

এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের যুগান্তরকে জানান, সামেদ আলীর বিরুদ্ধে একাধীক মামলা আছে। তবে তিনি এসব মামলার সবকয়টিতে জামিনে রয়েছে। নতুন করে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আকবরনগর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

যুগান্তর

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.