সিরাজদিখানে কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু

কিশোরী ঐশি পিরিজের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। কিশোরীর লাশ কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করায় এ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। নিহত ঐশির বাবা চট্টগ্রামের একজন হোটেল কর্মচারী। স্বজনদের অভিযোগ, লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতের সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে দাফনের অনুমতি দিয়ে চলে যায়। জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের মজিদপুর থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ২০ জুলাই দুপুরে তার বাপেরবাড়িতে নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে ঐশি।

শনিবার দুপুর পৌনে দুইটার সময় তার লাশ দাফন করা হয়। ময়নাতদন্ত ছাড়াই ঐশি পিরিজের পরিবারকে অনেকটা ভুল বুঝিয়ে লাশ দাফন নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ঐশির সঙ্গে বিশেষ করে তার স্বামী প্রায়ই মোবাইল ফোনে ঝগড়া করত। স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত ঐশি তা জেনে যাওয়ার কারণে তাই এর প্রতিবাদ করায় তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। তাকে নির্যাতনে হত্যায় প্ররোচনা করা হয়েছে নাকি এসব সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে তার সঠিক কারণ খুঁজে বের করার দাবি উঠেছে। আত্মীয়স্বজন দাবি করেছেন বাবার বাড়ির লোকজন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় এটা সত্যিই আত্মহত্যা নাকি হত্যা তা নিয়ে সবার মনেই সন্দেহ রয়েছে।

যদি এটা আত্মহত্যা না হয়ে হত্যা হয় থাকে তাহলে এর পেছনে কে বা কারা দায়ী তা খুঁজে বের করা দরকার। আর যদি আত্মহত্যা হয়ে থাকে তাহলে এর পেছনে যাদের প্ররোচনা রয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। নিহত ঐশি পিরিজের মা মঞ্জুরী পিরিজ বলেন, দেড় বছর আগে কেয়াইন ইউনিয়নের বড়ৈহাজী গ্রামের হেবল বটলেরুর ছেলে সীমান্ত বটলেরুর সঙ্গে আমার বড় মেয়ে ঐশি পিরিজের বিয়ের এনগেইজড (বাগদান পাকা কথা) হয়। তারা দু’জন দু’জনকে ভালোবাসার কারণে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের এনগেইজড করা হয়েছিল। গত শুক্রবার সকালে আমি আমার বাবার বাড়ি সাধু আন্তুনির ধর্মীয় অনুষ্ঠানে চলে গেলে ঐশি পরে যাবে বলে বাড়িতে থেকে যায়। আমি বাড়িতে এসে দেখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করলেও ঐশি ঘরের দরজা না খুললে দরজা ভেঙে দেখি ঐশি ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। তখন আমার চিৎকারে সবাই এসে এ ঘটনা দেখতে পায়।

সীমান্ত বটলেরু বলেন, ঐশির সঙ্গে আমার প্রায় দেড় বছর আগে বিয়ে ঠিক হয়েছে। আমরা দু’জন-দু’জনকে ভালোবাসতাম। গত শুক্রবার বেলা ১১টার সময়েও ঐশির সাধু আন্তুনির অনুষ্ঠানে যাওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। আমি বুঝতে পারলাম না কেন ঐশি ফাঁসি দিল। সাংবাদিকরা মোবাইল ফোনে সীমান্তকে থানায় কেন অভিযোগ করলেন না জিজ্ঞেস করলে এ প্রশ্নের জবাবে সীমান্ত কোনো কথা বলতে চায়নি। সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) হেলালউদ্দিন বলেন, সিরাজদিখান থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। লাশের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায়, দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

যুগান্তর

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.