যানজটে বাস থেকে নেমে আর ঢাকায় ফেরা হলো না পায়েলের

নিখোঁজ ভাগ্নের সন্ধানে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার এক দিন পরই মিললো লাশ। মা কোহিনুর বেগম ও মামা আসাদুজ্জামান সেই লাশের জন্য মন্সিগঞ্জ মর্গের সামনে অপেক্ষা করছেন।

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানা পুলিশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাপের চর সেতুর নিচে ফুলদী নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করে। এর আগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথেই রোববার ভোররাত থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না।

পুরো নাম মো. সাইদুর রহমান ওরফে পায়েল (২১)। পড়তেন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পঞ্চম সেমিস্টারে। বাড়ি চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকার আই ব্লকে। ওই এলাকার কাতার প্রবাসী গোলাম মাওলার দুই সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে তিনি। আর কন্যার বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর আগে।

নিহত সাইদুরের মা কোহিনুর বেগম জানান, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে হালিশহরের বাসা থেকে বের হয় সাইদুর। এক ঘণ্টা পর নগরের এ কে খান গেট এলাকায় হানিফ পরিবহনের কাউন্টার থেকে টিকিট কিনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। ওই বাসে তাঁর টিকিট নম্বর এ-৩। তাঁর এক সহপাঠীও ওই বাসের যাত্রী ছিলেন। যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মদনপুর ক্যাসেল হোটেলের সামনে রাত ৪টার দিকে যানজটে পড়ে বাসটি। তখন টয়লেটের প্রয়োজনে সাইদুর বাস থেকে নামেন। কিন্তু যানজট কেটে গেলে সাইদুরকে না উঠিয়েই হানিফ পরিবহনের বাসটি গন্তব্যে যাত্রা শুরু করে। আর ওই সময় ঘুমিয়ে ছিলেন সাইদুরের সহপাঠী।

তিনি আরও বলেন, ভোরে বাস থেকে নামার পর সাইদুরের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সকাল ৬টায় তার মা কোহিনুর বেগম সাইদুরের মোবাইলে কল দেন। সে সময় কলটি ধরেন বাসে থাকা তাঁর বন্ধু। এরপর তার মামা কামরুজ্জামান নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সাইদুরের মামা কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাসচালকের ভুলে আমার ভাগনে বাসে উঠতে পারেনি। পরে মুন্সিগঞ্জ থানার এক এসআই ফোন করে ভাগ্নের মরদেহ পাওয়ার খবরটি জানান।

লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া গজারিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান তালুকদার বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাপের চর সেতুর নিচে ফুলদী নদীতে এক তরুণের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। গিয়ে দেখা যায় লাশটি ভাসছে।

পরে কূলে এনে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় ওই তরুণের পকেটে একটি মানিব্যাগ পাওয়া যায়। এতে লন্ড্রির রসিদ এবং জন্ম নিবন্ধন নম্বর ছিল। এর সূত্রধরেই নিহত যুবকের স্বজনদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি।

আসাদুজ্জামান জানান, নিহত সাইদুরের নাকে ও মুখে রক্ত ছিল। আর গলার ডান পাশ ও পেটের দুই পাশে কালো দাগ ও ক্ষত রয়েছে। পরে দুপুরের দিকে নিহতের বাবা ও মামা থানায় আসার পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পরিবর্তন

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.