ধর্ষিতার অভিযোগঃ প্রথমে ইউপি চেয়ারম্যান পরে ঐ ছেলে ধর্ষণ করেছে!

নাছির উদ্দিন : সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যনের খাসকামরায় ৮ম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী (১৬) ধর্ষণ নিয়ে উপজেলায় ব্যাপক তোলপার শুরু হয়েছে। ছাত্রী বলছে প্রথমে চেয়ারম্যান ধর্ষণ করে পরে সাজিদ দেখে ফেলে এর পর সেও ধর্ষণ করে। ঘটনাটি গত ৯ মাস আগে ঘটেছে বলে জানাযায়। ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার মেয়েটির মা বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় ২জনকে আসামী করে একটি নারী ও শিমু নির্যাতন দমন আইন মামলা করেছে। যার নং ২৬/২১৩। ধর্ষীতা চেয়ারম্যানের নাম বললেও থানার অভিযোগে চেয়ারম্যানের নাম নেই। তবে ধর্ষক সাজিদ ও সহযোগী মলি আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা হযেছে।

এলাকাবাসী জানায় এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত উদ্যোগতা মলি ও ইউপি সচিব জামাল উদ্দিনের সহযোগিতা রয়েছে। এছাড়া ভিডিওটি দিয়ে মেয়েটিকে ব্লাক মেইলের চেষ্টা করে কোলা গ্রামের টুটুল ও সজিব।

ধর্ষীতা জানান, ইউপি চেযারম্যান লিয়াকত আলী আমাকে প্রথম ধর্ষণ করে পরে সাজিদ। আমি ঐ ছেলেকে চিনতাম না। প্রায় ছয় মাস পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগতা আঃ সালাম অসুস্থ্য থাকায় তার আপন ভাগনি মলি আক্তার ভারপ্রাপ্ত উদ্যোগতার দায়িত্ব নেন। মলি আক্তার আমাকে প্রায় কম্পিউটার শিক্ষার কথা বলত। তাই আমি মলি আপুর সাথে কম্পিউটার শিক্ষার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যেতাম। কম্পিউটার শিক্ষার সময় ঐ ছেলে আমার সাথে নানা দুষ্টামি করত আমার গায়ে হাত দিতো, আমি মলি আপুকে বলতাম মলি আপু বলত কিছু হবেনা। কয়েক দিন পর মলি আপু আমাকে বলেন ঐ ছেলেসহ কয়েকজনের খাবার রান্না করে দিতে। তারা আমাকে অকেন টাকা দিবে। তিনি আরো বলেন, তোর মা আয়ার কাজ করেন তুই ওদের খাবার রান্না করে দিলে সমস্য কি? ওরা তোকে ভাল বেতন দিবে। তোকে ভালো মোবাইল কিনে দিবে। এরপর আমি রান্নার কাজ শুরু করি। তখন ঐ ধর্ষক সাজিদ আমাকে ভালো ভালো কথা বলত এবং আমার সাথে প্রেম করত। প্রায় সময় সাজিদ আমাকে জডিয়ে ধরে ছবি তুলত আর এরই মধ্যে একদিন আমার সাথে এসব ঘটনা ঘটায়। এসব ঘটনার সাথে সাথে আমি মলি আপুকে সব বলি মলি আপু বলেন, আর কার কাছে যেন না বলি, তার পর থেকে আমি আর কোন দিন ঐ খানে যাই নাই। সাজিদ আমাকে ফোন দিতো আমি ওকে বলেছি আপনে আমার সাথে খারাপ কাজ করেছেন আপনে আমাকে আর কোন দিন ফোন দিবেন না। তার পরে আমি আমার ফোন নাম্বার বন্ধ করে দেই।

ধর্ষীতার মা বলেন, মলির সহযোগিতায় চেয়ারম্যানের খাসকামরায় আমার মেয়ে জীবনটা নষ্ট করে দিল ঐ লম্পট সাজিদ, মলি ও চেয়ারম্যান সব জানে, কিন্তু এখন আমার মেয়ের সর্বনাশ হয়ে গেল। আমি এর বিচার চাই, মলি আমার মেয়েকে চেয়ারম্যান অফিসে বার বার ডেকে নিয়ে এই সর্বনাশ করল, চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত রুমে এই লোকদেরকে থাকতে দিয়েছে। চেয়ারম্যানের অফিসে আমার মেয়ের এই সর্বনাশ হলো আমি এর বিচার চাই। আমি সাজিদ ও মলির বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় মামলা করেছি।

এ ব্যপারে কোলা ইউপি চেয়ারম্যান মীর লিয়াকত আলী বলেন, আমি এসব ব্যাপারে এখন আপনাদের কাছ থেকে জানলাম, ইতিপূর্বে আমি এসব ঘটনা শুনিনি বা জানিও না। তিনি আরোও বলেন, এই ছেলেকে পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স কাটার জন্য পাঠিয়েছে একটি সংস্থা যারা কাজ পেয়েছে। এ ছেলের পূর্ণ ঠিকানা এনে দিতে পারব। এখানে এই ছেলেকে যে পাঠিয়েছে আমার সাথে তার ডিট ডুকুমেন্ট আছে। আমার সচিব ঢাকা গেছে সে আসলে আমি তার ঠিকানা দিতে পারব। সাজিদকে এখানে পাঠান টংঙ্গীবাড়ীর ব্রজযোগীনি গোলাম মোর্শেদ। ঘটনাটি নিয়ে একটি পক্ষ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। আমাকে জড়িয়ে আমার সন্মান ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। মেযেটিকে তারা তাদের নিকট রেখে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে জড়িত রয়েছে আমার ইউনিয়নের মহিলা সদস্য রওশন আরা।

রওশন আরা জানান, এই চেয়ারম্যান এর চরিত্র আমি জানি। এলাকায় খোঁজ নেন অনেক কিছু জানতে পারবেন। থানায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা নিবে না, তাই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে নাই।

এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানা অফিসার ইনর্চাজ বলেন, তারা চেয়ারম্যান সহ মামলা দিতে চেয়েছিল। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন? তারা বলে তার পরিষদের কামরায় তাদের থাকতে দিছে এজন্য। এ ঘটনায় ২ জন আসামী করে মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে নেমেছে।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.