মুন্সিগঞ্জে লঞ্চঘাটে দুই পন্টুনের ফাঁক দিয়ে পানিতে পড়ে গেলেন বৃদ্ধা

মুন্সিগঞ্জে লঞ্চঘাটের দুই পন্টুনের ফাঁক দিয়ে পানিতে পড়ে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধা (৬০) নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে ঘাটের দুই ও তিন নম্বর পন্টুনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ডুবুরি নেই জানিয়ে রাতে বৃদ্ধাকে উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, বৃদ্ধা লঞ্চঘাট ও আশপাশ এলাকায় ভিক্ষা করতেন। রাতের বেলায় প্রায়ই এ ঘাটে আসতেন। এখানেই থাকতেন। গতকাল রাতেও থাকার জন্য আসেন। রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য তিন নম্বর পন্টুনের দিকে যাচ্ছিলেন। দুই ও তিন নম্বর পন্টুন প্রায় দুই থেকে আড়াই ফুট ফাঁকা ছিল। বৃদ্ধা ওই ফাঁকা জায়গায় পড়ে যান। আশপাশের কেউ কেউ দৌড়ে এসে তাঁকে পানি থেকে ওঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে বৃদ্ধা ডুবে যান। খবর পেয়ে পরে ফায়ার স্টেশন ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

মো. আনিছুর রহমান নামের স্থানীয় একজন বলেন, বৃদ্ধার কেউ নেই বলে তাঁকে খোঁজার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা নেই। কাল রাতে উদ্ধারের ব্যবস্থা না নিয়ে সকালে (রোববার) খোঁজ করার কথা বলে চলে যায়। ঘটনাটিতে কোনো গুরুত্বই দেয়নি ফায়ার স্টেশন ও নৌ পুলিশ।

এ ব্যাপারে আজ রোববার মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আবুল হাসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘রাতে খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই। আমাদের কাজ হচ্ছে নদীর ওপরের ভাগে, তা আমরা করেছি। ফায়ার স্টেশন কর্মীদের কাজ নদীর তলদেশে।’

মুন্সিগঞ্জ ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা শওকত আলী জোয়ারদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রাতের বেলায় আমাদের ডুবুরি দল ছিল না। ঘাটবোঝাই লঞ্চ ছিল। তাই খোঁজ করা সম্ভব হয়নি। আজ ঢাকা থেকে ডুবুরি দল এসেছে। সেই সঙ্গে আমাদের ডুবুরিরাও আছে। সবাই নদীর তলদেশে গিয়ে খোঁজ চালাচ্ছে।’

এদিকে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটের সেবা নিয়ে উঠেছে অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাটের এক কর্মী প্রথম আলোকে জানান, পন্টুনগুলোর সংযোগ ঠিক রাখতে দুইটার মধ্যে র‌্যাম্প দিতে হয়। সেটা এখানে নেই। নদীর ঢেউ পন্টুনের গায়ে লাগলেই তা ফাঁকা হয়ে যায়। ফাঁকা জায়গায় পড়ে এর আগেও ছোটখাটো অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘাট কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

মুন্সিগঞ্জের লঞ্চঘাটের ইজারাদার দিল মোহাম্মদ কোম্পানী বলেন, ‘ঘাটের সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের যতটুকু সাধ্য ছিল, করেছি। বড় সমস্যাগুলোর কথা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছিলাম। তারা এগুলো ঠিক করে দেওয়ার কথা বললেও করেনি। দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।’

নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক জহির উদ্দিন চৌধুরী বৃদ্ধার পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ঘাটের পন্টুনের মধ্যে খুব শিগগির র‌্যাম্প বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো সমাধানের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রথম আলো

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.