ধলেশ্বরী শাখা নদীর খাল সংস্কার করা হলে অর্থনৈতিক চাকা ঘুরে দাঁড়াতে পারে

গুচ্ছ গ্রামের খালে সারা বছর থাকে কচুরি পানা
মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরীর শাখা নদী বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের গুচ্ছ গ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছে। আগে এই খালটি মুলত বড় আকারে ব্রম্মপুত্র নদী ছিলে। নদীর পাড় ভাঙ্গনে এক সময় এই নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়।

পরে নদীর ওপর চর পড়ায় এখানে মানুষ ধীরে ধীরে বসতি গড়ে তোলে। সেই ব্রিটিশ আমলের ১৯৩০ সাল থেকে এখানে মানুষের বসতি গড়ে উঠতে দেখা যায়।

পরে এই খালটির মুখ সংযুক্ত হয় ধলেশ্বরী নদীর সাথে। ব্রিটিশ আমলে বর্ষার মৌসুমে এই খালটি ভরা যৌবনে রূপ নিতো। সেই সময় খালে পানিতে থৈ থৈ করতো। খালে এই পানির প্রবাহ অনেক বছর থাকলেও বিগত ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এই খালের সেই পানি প্রবাহে অনেকটাই ভাটা পড়তে দেখা যায়।

সেই আগের সময়ে এই খাল দিয়ে বর্ষার সময় শরিয়তপুর, নড়িয়া ও মাদারীপুরের বড় বড় লঞ্চ এই খাল দিয়ে যাতায়াত করতো। এতে সেই সময় লঞ্চ যাতায়াতে তাদের প্রায় দেড় ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টা এই পথে সময় বেঁচে যেতো। ধলেশ্বরীতে যেমন এই খালের মুখ রয়েছে, তেমনটা দক্ষিণের দিকে রয়েছে মেঘনা ও পদ্মার মুখ। তিন নদীর বিধৌত এমন খাল আর দেশের কোথাও নেই। এমন বিশুদ্ধ পানি পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার।

সময়ের আবর্তে এই খালে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় এই খালে লঞ্চ চলাচল এখন প্রায় বন্ধ। আর এই সুযোগে খালের দুই পাড়ে তৈরি করা হয়েছে অনেক অনেক বাঁশের সাঁকো।

খালে বর্তমানে পানি প্রবাহ যেমনটাই থাকুক না কেন খালে সারা বছরই কচুরিপানায় ভর্তি থাকে। এর ফলে এখানে সাধারণত নৌকা চলাচল করতে পারে না। বারো মাস কচুরি পরিস্কার থাকলে এখানে গড়ে উঠতে পারে মিঠা পানি মাছের অভয়ারান্যে।
এই খালের সংস্কার করা হলে এর জলধার আরো বাড়ানো সম্ভব বলে অনেকেই মনে করছেন।

আর জলধার বাড়াতে পাড়লে এখানে মিঠা পানির মাছও চাষ করা সম্ভব। খালের দুই পাড়ের বসতিদের সমবায়ের মাধ্যমে মাছ চাষে উদ্ভুত করা হলে এখান থেকে অর্থ উপার্জন করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।

এখন দরকার শুধু উদ্যোগের। এই উদ্যোগ নিতে পারেন মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র।
এর ফলে খালে পাড়ের বসতিরা যেমন লাভবান হবে, তেমন দেশের মানুষ পাবে মিঠা পানির মাছ। পরিকল্পিত কিছু করা হলে জাতি অনেক কিছুই উপকার পেতে পারে। এই কাজে যুব সমাজকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

মুন্সিগঞ্জ নিউজ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.