টোকিও অলিম্পিককে সামনে রেখে জাপানে মোবাইল মসজিদ চালু

রাহমান মনি: জাপানে সরকারিভাবে ধর্মীয় কাজে যেমন উৎসাহ দেয়া হয় না তেমনি, ধর্মীয় কাজে কোনো বাধাও দেয়া হয় না। যার জন্য সারা বিশ্ব ক্রিস্টমাস হিসেবে সরকারি বন্ধ থাকলেও, জাপানে ছুটি থাকে না। আবার অনেক দেশে প্রকাশ্যে ধর্মীয় কাজে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জাপানে তেমনটি নেই। তবে, জনসম্মুখে কিছু করতে গেলে পূর্বানুমতি নিতে হয়।

জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসলে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে উদ্যোগ নেন। নিজ কার্যালয়ে মুসলিম দেশগুলোর কূটনীতিকদের সম্মানে এক ইফতার মাহফিল এর আয়োজন করেন। এতে তিনি ব্যাপক সাড়া পান।

এরপর তিনি মুসলিমদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তার মধ্যে বড় বড় ডিপার্টমেন্টালগুলোতে হালাল ফুড কর্নার, বিমানবন্দর, বড় বড় রেলস্টেশন এবং তারকাবিশিষ্ট হোটেলগুলোতে নামাজের জন্য বিশেষ (নামাজ ঘর) স্থান বরাদ্দসহ নানামুখী কর্মসূচি। তার এই সময়ে জাপানে সবচেয়ে বেশি মসজিদ নির্মিত হয়েছে, হওয়ার পথে।

এবার তিনি যা করলেন তা রীতিমতো জাপান প্রবাসী মুসলিম তো বটেই, বিশ্ব মুসলিম জাতির হৃদয়ে স্থান গেড়ে নিয়েছেন।

আসন্ন ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য গ্রীষ্মকালীন টোকিও অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিক গেমস উপভোগ করতে আসা মুসলমান পর্যটকদের নামাজ পড়তে যাতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়, এ বিষয়টি মাথায় রেখেই জাপান সরকার এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে।

২০২০ সালে জাপানের রাজধানী টোকিওতে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হবে। ওই সময় অন্যদের সঙ্গে বিশ্বের অনেক মুসলমানও দেশটিতে আসবেন। আর তাই জাপান সরকার ‘মোবাইল মসজিদ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় এই ক্রীড়া আসরকে সামনে রেখে এই ‘মোবাইল মসজিদ’ তৈরি করেছে জাপান সরকার।

জাপানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২০০টি মসজিদ রয়েছে। আরও কিছু হওয়ার পথে। তারপরও মোবাইল মসজিদ প্রতিষ্ঠা একদিকে যেমন এর মাধ্যমে অলিম্পিকের মতো বড় আসরের প্রচার ও প্রসারের কাজ চলছে, তেমনি প্রয়োজনীয় মুহূর্তে কাজসহ এ ধারণা মুসলমানদের মধ্যে মোবাইল মসজিদ জনপ্রিয় করার চেষ্টাও করা হচ্ছে।

এই মোবাইল মসজিদ বানাতে চার বছর সময় লেগেছে। ৪৮ ফুট লম্বা, ২৫ টনি ট্রাককে একটু বদল করে সেটিতে নামাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ৪৮ বর্গ (বাইরে থেকে দেখে খুবই সাধারণ মনে হলেও নামাজের সময় খুলে যাবে ট্রাকের দুই পাশ। ফলে বাড়বে ট্রাকের ধারণক্ষমতাও। ৫১৫ বর্গফুট আয়তনের বর্ধিত) মিটার ওই জায়গায় একসঙ্গে ৫০ জন নামাজ পড়তে পারবেন। মোবাইল মসজিদের ভেতর ওজুর জন্য পানি রয়েছে। একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে ওজু করতে পারবেন। কিবলার দিকও নির্দেশ করা আছে। এ প্রকল্পের জন্য জাপান সরকার প্রতিটি গাড়ির জন্য ৯০ হাজার ডলার ব্যয় করেছে। আসন্ন টোকিও অলিম্পিকের সময় মোবাইল মসজিদগুলো বিভিন্ন স্টেডিয়ামের সামনে রাখা হবে।

চালক একাই পরিচালনা করতে পারবেন এই মোবাইল মসজিদ। সুইচ টিপলেই ধীরে ধীরে খুলে যাবে ২৫ টন ভার বহনে সক্ষম এই ট্রাকের দরজা। প্রথমে সিঁড়ি বের হয়ে পরে বামদিক তারপর ডান দিকটা খুলে অনেকটা বর্গাকৃতির আকার ধারণ করে ভিতরটা পূর্ণাঙ্গ মসজিদের রূপ ধারণ করবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদগুলোতে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সবই বিরাজমান থাকবে।

এই মোবাইল মসজিদ তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে ইয়ামাগুচিতে অবস্থিত ওশিমাজিকো ইলেকট্রনিক কোম্পানি। মোবাইল মসজিদের ধারণার জনক টোকিওর বাসিন্দা ইয়াসুহারু ইনোউএ। এর আগে ২০০৪ সালের এথেন্সে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক – এ ফুটবাথ তৈরি করেছিলেন তিনি। এরপর ২০১২ সালে লন্ডন গেমসে এক অনুষ্ঠান আয়োজন করেন তিনি। কাতারে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গিয়ে মোবাইল মসজিদ বানানোর ধারণা তার চিন্তার মধ্য আসে। তিনি বলেন, নামাজ পড়ার আরামদায়ক পরিবেশ তৈরির মধ্য দিয়ে মুসলমানদের ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিক-এ আমন্ত্রণ জানাতে চাই।

জাপান প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটিতে বেশ সাড়া ফেলে প্রকল্পটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়ে যায়।

rahmanmoni@ïm.biglobe.ne.jp

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.