বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে টোকিওতে মানববন্ধন

রাহমান মনি: সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন শিক্ষার্থী নিহত হওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে টোকিওতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাপানে বসবাসরত প্রবাসী ছাত্র সমাজের আহ্বানে জাপান প্রবাসীদের গর্ব টোকিও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ৫ আগস্ট রোববার সকাল ১১টা থেকে ১২টা এই এক ঘণ্টার মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য থাকলেও সর্বস্তরের প্রবাসীরা তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী মিডিয়া কর্মীরাও। অনেকে আবার শিশু সন্তানসহ সপরিবারে উপস্থিত হন।

এছাড়াও পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে (টোকিও শহীদ মিনার পরিচ্ছন্ন) অংশ নেয়া টোকিও বিক্রমপুর স্টুডেন্ট ক্লাব, জাপান-এর শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধনে অংশ নিয়ে থাকেন।
তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে স্থানীয় জাপানি, ইংরেজি এবং বাংলা ভাষায় বিভিন্ন সেøাগান সম্বলিত পোস্টার, প্লাকার্ড এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের (পত্রিকায় প্রকাশিত) বিভিন্ন ছবি নিয়ে ইকেবুকুরো নিশিগুচি পার্কে প্রতিষ্ঠিত টোকিও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হাজির হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া প্রবাসীদের মূল সেøাগান ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে?’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’, ‘শাজাহান খানের পদত্যাগ চাই’।

উই ওয়ান্ট জাস্টিস সেøাগানে মুখরিত ইকেবুকুরো নিশিগুচি পার্ক প্রকম্পিত হয়ে উঠলে উৎসুক জনতা (পার্কে অবস্থানরত এবং পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া) মানববন্ধন পার্শ্বে ভিড় জমাতে থাকে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে চলে আসে জাপান পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাগণ। মানববন্ধনের বিভিন্ন খোঁজখবর নিতে থাকেন।
এছাড়াও পার্কে অনুষ্ঠানরত একটি জাপানিজ সাংস্কৃতিক দল তাদের লাইভ অনুষ্ঠান এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রেখে বাংলাদেশিদের প্রতি সম্মান জানিয়ে। জাপানি ভাষাতেও প্লাকার্ড লিখা থাকায় বিষয়টি অনুধাবন করতে সুবিধা হয়। কেউ কেউ বাংলাদেশিদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলতে থাকেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি প- করতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গতকাল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল ছোড়ে। হামলাকারীরা রড, লাঠি ও বাঁশ দিয়ে তাদের বেধড়ক পেটায়। এসময় তারা হেলমেট ব্যবহার করে। পুলিশ হামলাকারীদের পক্ষ নেয়। এই জন্য সরকারই দায়ী এবং এই দায় সরকারকেই নিতে হবে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কেউ আমাদের ভাই বা বোন। আবার কেউবা ভাইগ্না-ভাগ্নি বা ভাতিজা-ভাতিজি। হয়তোবা কেউ না। কিন্তু তাদের দাবিটি ন্যায্য অভিহিত করে মানববন্ধনে অংশ নেয়া প্রবাসী শিক্ষার্থীরা বলেন, এই ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন আমাদের আছে এবং থাকবে। এইসব কচি প্রাণের রক্ত ঝরতে দেয়া বা মেনে নেয়া যায় না। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা যারা চালিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে নিরাপদ সড়কের দাবির প্রতি সমর্থন জানান তারা।

তারা বলেন, সরকারের কাছে ছাত্রদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন, ছাত্রদের নিপীড়ন বন্ধ করা ও নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে অব্যাহতি দিয়ে ছাত্রদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের ঘরে ফেরার পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানান। সরকার যত তাড়াতাড়ি বিষয়টি উপলব্ধি করে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগী হবে দেশের জন্য ততই মঙ্গলজনক হবে। সরকারকে আরও সহিষ্ণু হতে হবে।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.