ঈদ আনন্দ নেই বেদে পল্লীতে

ইমতিয়াজ উদ্দিন বাবুল: সিরাজদীখানের বেদে পরিবারগুলো এখন অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে। গাঁয়ের পথে ঝুড়ি মাথায় কিংবা কাঁধে লম্বা ব্যাগ ঝুলানো বেদে পরিবারের সদস্যদের আগের মতো চুড়ি-ফিতা বিক্রি করতে দেখা যায় না। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় ব্যস্ত এ সময়ে মানুষ আর আগের মতো জড়ো হয়ে সাপ খেলা দেখার সময় পায় না।

সিরাজদীখান উপজেলার বেদে পল্লীতে এবার ঈদ আনন্দ আর আগের মতো দেখা যাবে না। কোনো রকমে দু’মুঠো খেয়ে-পরে বেঁচে আছে এ অঞ্চলের বেদেরা। অর্থাভাবে কোরবানি দেওয়া আর হয়ে ওঠে না এখানকার বেদেদের। তাই ঈদের দিন অন্য সব দিনের মতোই মনে হয় তাদের কাছে। বেদে পরিবারের শিশু-কিশোরদের মাঝে ঈদ নিয়ে হৈচৈ নেই। ঈদ সামনে রেখে বিগত সময়ের মতো এখন আর বেদে পরিবারের শিশু-কিশোরদের আতশবাজি করতে দেখা যায় না। ঈদের আনন্দ এখন মনে ধরে না বেদেদের।

উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে মালখানগর ইউনিয়নের তালতলা বাজারের পেছনে ইছামতি নদীতে ভাসমান ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় বর্তমানে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে ৬০টি বেদে পরিবার।

সিরাজদীখান বাজারে ঝোলা কাঁধে বের হওয়া বেদে পরিবারের সদস্য হোসনে আরা বেগম (৫৫) বলেন, ‘আমাদের কাছ থেইক্কা মানুষ আগে চুড়ি-ফিতা কিনলেও এখন বাড়ির বউ-ঝিরা হাট-বাজারে গিয়া কিনে। এ ছাড়া যেহানে সেহানে ডাক্তার থাকায় আমাগো কাছ থেকে শিঙা ও তাবিজ কেউ নেয় না।’

সিরাজদীখানের তালতলা এলাকায় বসবাসকারী বেদে পরিবারের সদস্যরা জানান, নারীদের আগের মতো গ্রামে-গঞ্জে চুড়ি-ফিতা বিক্রি, শিঙা লাগানো, তাবিজ বিক্রি কিংবা সাপ খেলা দেখানো পেশায় উপার্জন নেই বললেই চলে। তবে বিভিন্ন গ্রামীণ মেলায় ছোট ছোট দোকান বসিয়ে খেলনা থেকে শুরু করে মাটির তৈরি সামগ্রী, চুড়ি, ফিতা, নেলপলিশ, বিক্রি করে এখনও কিছুটা উপার্জন হয় তাদের। পুরুষরা মাছ ধরে নারীদের পাশাপাশি কিছুটা উপার্জন করেন। এতে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছে তারা।

সিরাজদীখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানবীর মোহাম্মদ আজিম জানান, বেদেদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধাদানের চেষ্টা চলছে। সরকারি সব সুযোগ-সুবিধাই তাদের পর্যায়ক্রমে দেওয়া হচ্ছে।

সমকাল

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.