৪৭ বছরেও সিরাজদিখানে পাকা হয়নি রাস্তা, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

সিরাজদিখান উপজেলা থেকে দক্ষিণ তাজপুর গ্রাম ও দক্ষিণ তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত মাত্র তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকা না হওয়ায় রশুনিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার মানুষ ও দক্ষিণ তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৩৫ শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ তাজপুর, রশুনিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা উপজেলা-দক্ষিণ তাজপুর রাস্তায় চলাচল করে। আশপাশের মানুষের কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য মালামাল কেনা-বেচার জন্য উপজেলা মোড়সহ সিরাজদিখান বাজারে যাওয়ার এটাই একমাত্র রাস্তা। এছাড়া শিক্ষার্থীরা এ পথেই ও দক্ষিণ তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সিরাজদিখান উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিক্রমপুর কেবি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় কলেজে যায়।

কিন্তু রাস্তাটির দক্ষিণ তাজপুর শহিদ ঢালীর বাড়ি থেকে পঞ্চার মাঠ হয়ে দক্ষিণ তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে সিরাজদিখান উপজেলা পর্যন্ত অংশ এবং দক্ষিণ তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সিরাজদিখান উপজেলা পুকুর পার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকা না হওয়ায় স্থানীয়রা রাস্তাটির সুফল ভোগ করতে পারছে না। উল্টো বর্ষায় কর্দমাক্ত ও সামান্য ইট বিছানো রাস্তায় চলাচল করাই দায় হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রিকশা বেশি চলাচল না করায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকরা পায়ে হেটে স্কুল কলেজে যাচ্ছে। অনেককাংশে বৃষ্টির সময় যাত্রীরা কাদায় নেমে সিএনজি অটোরিকশা ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা হাঁটু পর্যন্ত কাপড় ভাঁজ করে এক হাতে বই আরেক হাতে জুতা-স্যান্ডেল নিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে দেখা গেছে। কেউ কেউ কাদায় পিছলে ইটে হোঁচট খেয়ে বই খাতা ও জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসুম রহমান শিমুলের অভিভাবক প্রফেসর মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়মা আক্তারের মা মৌসুমী আক্তার বলেন, এ এলাকার মানুষের ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে রাস্তাটি দ্রুত পাকা করা দরকার।

দক্ষিণ তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামলী রানী ঘোষ বলেন, এই স্কুলে ৪৩৫ জন শিক্ষার্থী আছে। বেশ কজন শিক্ষার্থী প্রায় তিন কিলোমিটার দূর থেকে এই স্কুলে আসে। পরীক্ষার ফলাফলের দিক থেকে উপজেলায় এই স্কুল দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। এই স্কুলে সমাপনী পরীক্ষার সময়ে দেড়হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই ইট বিছানো ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে খুব কষ্ট করে আসেন। উপজেলার সবচেয়ে কাছের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়াতে বেশির ভাগ সময়েই ভিজিটর এই স্কুলে আসেন। অথচ উপজেলার এত কাছের স্কুলটির যাতায়াতের রাস্তা স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও পাকা করা হয়নি। আমাদের সকলের দাবি যথা শীঘ্রই কর্তৃপক্ষ এই রাস্তা পাকাকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী সোয়াইব বিন আজাদ জানান, রাস্তাটি দেখে এই তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে। বরাদ্দ পেলেই এ রাস্তার কাজ করা যাবে বলে আশা করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানবীর মোহাম্মদ আজিম জানান, এই রাস্তাটি পাকাকরার জন্য স্থানীয়ভাবে আমরা অনেক সুপারিশ পেয়েছি। আমরা স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে এমপি মহোদয়ের অনুমতি নিয়ে রাস্তা পাকাকরণের জন্য প্রস্তাব পাঠাবো। বরাদ্দ পেলে এই অর্থবছরেই কাজ করা যাবে।

নিউজজি/এসএম

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.