শ্রীনগরে বর্জ্য দূষণে ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

মাসুদ খান: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এলজিইডির একটি সরকারি রাস্তা দখল করে একাধিক গরুর খামার করা হয়েছে। খামারগুলোর বর্জ্য অপসারণের জন্য রাস্তা কেটে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। অনেকে আবার রাস্তার ওপর বর্জ্য স্তূপ করে রাখছেন। এতে পরিবশেষ দূষিত হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে এলাকাবাসী।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের মধ্য কামারগাঁওয়ের নার্সিং ইনস্টিটিউটের কাছে খালপারের সরকারি রাস্তার ওপর অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক গরুর খামার। পাশাপাশি কয়েকটি বাড়ির খামার থেকে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে রাস্তার পাশে। পাকা রাস্তাটির পাশেই একটি সরকারি গভীর নলকূপ। নলকূপের চারদিকে বর্জ্যের নোংরা-ময়লা পানি জমে রয়েছে। নলকূপের দুর্গন্ধযুক্ত পানি পান করায় গ্রামের শতাধিক পরিবার স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। এ ছাড়া খামারিরা পাকা রাস্তা কেটে ড্রেন করে তাদের খামারের যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা নামাচ্ছে।

আশপাশে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই খামারের নোংরা পানি রাস্তায় জমে। এতে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। জমে থাকা নোংরা পানিতে প্রচুর মশা-মাছি জন্মায়। এতে এলাকায় ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, কলেরা, ডেঙ্গুসহ নানা ধরনের রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় রাবেয়া বেগম, আব্দুল বাতেন, পাপিয়া রানী, যতিন্দ্র, নিরাঞ্জন মণ্ডল, টুটুল মণ্ডল, কুদ্দুস খান জানান, রাস্তার পাশে গরুর খামার করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হলেও সঠিকভাবে বর্জ্য নিষ্কাশন করা হচ্ছে না। অনেকে বর্জ্য স্তূপ আকারে জমাচ্ছে। ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ হওয়ায় এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ করেও কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে খামার মালিক ইদ্রিস খান (৬৫), কুদ্দুস খান (৬০) ও সিদ্দিক খান (৪৫) বলেন, জায়গার অভাবেই রাস্তার পাশে খামার করা হয়েছে। তবে এতে খুব একটা পরিবেশ দূষিত হচ্ছে বলে মনে হয় না। রাস্তা কেটে বর্জ্য ফেলানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, তারা রাস্তা কাটেনি। রাস্তা কেটেছে পাশের খামার মালিক আনন্দ ঘোষ (৪৫)।

খামারি আনন্দ ঘোষ বলেন, ‘একসময় এখানে খাল ছিল। কিছু লোক খালে বালু ভরাট করে ফেলায় আমাদের এই সমস্যা হয়েছে। খাল থাকলে এ ধরনের সমস্যা হতো না।’

স্থানীয় চেয়ারম্যান কাজী মনোয়ার হোসেন (শাহাদাত) বলেন, ‘বিষয়টি লোকজন আমাকে জানিয়েছে। কিন্তু নানা জটিলতায় আমার পক্ষে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি।’

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারি রাস্তা কেটে কেউ ড্রেন করতে পারে না। এমন হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বায়োগ্যাস সিস্টেম ও পরিবেশ সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো গরুর খামার বৈধ হতে পারে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন কোনো কিছুই আমরা বরদাশত করব না। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

কালের কণ্ঠ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.