কেন্দ্রে আছেন, তৃণমূলে নেই বি. চৌধুরী

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব প্রফেসর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। যিনি বি. চৌধুরী হিসেবেই সমধিক পরিচিত। রাজনৈতিক জীবনের একপর্যায়ে তিনি বিএনপির সমর্থনেই রাষ্ট্রপতি হন। তবে দলটির নীতির সঙ্গে একমত হতে পারেননি। তাই কিছুদিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়তে বাধ্য হন। গঠন করেন নতুন দল বিকল্পধারা। ক্ষমতায় থাকা বিএনপি তখন নতুন দলটির উপর নিপীড়ন শুরু করে। বি. চৌধুরীদের উপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়া হয়। তাদের বাড়ি আক্রান্ত হয়। দলটির নেতাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পর্যন্ত হামলা করা হয়। এই কারণে জনমনে তাদের প্রতি অনুকম্পা তৈরি হয়। তখন উপনির্বাচনে ভালো করে বিকল্পধারা। পরে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলটির ফল ছিল বিপর্যয়কর। সেই থেকে তারা তৃণমূল থেকে নিজেদের অনেকটাই গুটিয়ে নেয়। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে সরব হয়েছেন বি. চৌধুরী। নতুন রাজনৈতিক মোর্চা যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে এখন বেশি আলোচনায় তিনি।

২০০৭ সালের আগে আওয়ামী লীগের জোটে যোগ দেয় দলটি। তবে এক-এগারো আসার পর সেই মহাজোট আর টিকে থাকেনি। এক-এগারোর সময় বিকল্পধারার নেতাদের অবস্থান প্রশ্নমুক্ত নয়। সেই কারণেই দূরত্ব তৈরি হয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে। গত কয়েক বছরে বিএনপির সঙ্গে বিকল্পধারার তিক্ততা কমতে থাকে। হালে যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে দলটি বিএনপির সঙ্গে জোটে যাবে চারদিকে এখন এই আলোচনা। শেষ পর্যন্ত কী হয় তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে সবাইকে।

বি. চৌধুরী সাত মাসাধিককাল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ৩০ মে ২০০২ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিরপেক্ষ থেকে জিয়ার সমাধি পরিদর্শন না করার সিদ্ধান্ত নেন। তার এই পদক্ষেপে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির অনেক নেতা তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন। সংসদে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবেরও পরিকল্পনা চলছিল। নিজ দলের মধ্যে বিরাজমান ক্ষোভ ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তিনি ওই বছরের ২১ জুন বিএনপি সভানেত্রী খালেদা জিয়ার বাসভবনে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন ও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগের পর ড. চৌধুরী বিএনপি থেকেও পদত্যাগ করেন।

পরবর্তীকালে মুন্সিগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত তার পুত্র মাহি বি. চৌধুরী ও বিএনপির আরেকজন সাংসদ এম এ মান্নান সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০০৪ সালের মার্চে বি. চৌধুরীর উদ্যোগে তারা সমন্বিতভাবে বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। বি. চৌধুরী দলের সভাপতি ও এম এ মান্নান মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উপনির্বাচনে দলটি মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে জয়লাভ করে। তবে বর্তমানে এ দলটির সংসদে কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিকল্পধারা বাংলাদেশের ব্যানারে নির্বাচনে লড়ে তৃতীয় স্থান পায় বিকল্পধারা। এরপর থেকে বি. চৌধুরী ও তার পুত্র মাহী বি. চৌধুরী এলাকায় গিয়েছেন খুবই কম। দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ঢাকায় গিয়ে আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা করছেন। আবার কেউ কেউ বিএনপিতে ফিরে গেছেন। এই আসনে ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী কিংবা মাহী বি. চৌধুরী বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রার্থী হতে পারেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের কোরবান আলী নির্বাচিত হলেও পরে এই আসনটি হাতছাড়া হয়ে যায় আওয়ামী লীগের। ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ২০০২ সালে উপনির্বাচনে তার ছেলে বিএনপির মাহী বি. চৌধুরী নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সুকুমার রঞ্জন ঘোষ নির্বাচিত হন।

মুন্সিগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসন একসময়ে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল কিন্তু বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে লাঞ্ছিত করায় সেই দুর্গের পতন ঘটে। বিভক্ত হয় বিএনপির ভোটব্যাংক। এখন বিকল্পধারা বিএনপির সঙ্গে জোটে গেলে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনের রাজনীতিতেও নতুন মেরুকরণ তৈরি হবে।

ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.