মুন্সিগঞ্জ-২ আসনটি ধরে রাখতে, সাংসদ এমিলি নির্ভরযোগ্য

মোহাম্মদ আলী মোল্লা লিঙ্কন : ৯৫ সাল, দেশে গিয়েছি। বেগম খালেদার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তখন তুমুল আন্দোলন চলছে। আওয়ামী লীগের ডাকা হরতাল সফল করার জন্য, লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সভা শেষে মিছিলে অংশ নিই। সেই মিছিলে, অনুজ সহযোদ্ধা বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বেপারী আমাকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেন, সাংসদ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সাথে।

প্রবাসে থাকায় এলাকার রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট না থাকলেও, আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসাবে যখন দেখলাম – দলের দুঃসময়য়ের ত্যাগী নেতা-কর্মিদের অবমূল্যায়ন করে, কিছু সুবিধাবাদীরা দলে জায়গা করে নিচ্ছে; এমন কি বিএনপিসহ সবদল করা লোকেরাও লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের হর্তা –কর্তা হয়ে বসে আছেন ! দলের দুঃসময়ে যারা দলের বিরোধিতা করেছে ! “ বাকশালী “ বলে গালি দিয়েছে ( দেশ বিরোধীদের অব্যাহত অপপ্রচারে অনেকেই “ বাকশাল “ শব্দটিকে তখন গালি মনে করতেন ), ৭৯-এর সংসদ নির্বাচনে বিজয় মিছিলের নামে আমাদের নৌকার গেইট, নৌকার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা, জেনারেল জিয়ার জঙ্গি শাসনামলের বিরুদ্ধে ডাকা হরতালে পুলিশের সহযোগিতায় হরতাল প্রতিরোধ করা, তৎকালীন বিএনপির সাধারন সম্পাদক যখন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা বনে গেলেন, তখন দলের ত্যাগি নেতা-কর্মিরা দুঃখে, কষ্টে নীরব হয়ে যান। দলের পরীক্ষিত নেতারা পদ-পদবী না পেলেও দলের দুঃসময়ে সবার আগে থাকেন, তা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ভালো করে জানেন, এব্যাপারে তিনি পরিস্কার করে বলেছেন যে, “ত্যাগী নেতা – কর্মিরা অভিমানী হলেও বেঈমান হয় না ।“ স্থানীয়ভাবে লৌহজং এর ত্যাগী নেতা-কর্মিরা সেই প্রমান বার বার দিয়েছেন। ২০০১ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর বিএনপি-জামাতের দুঃশাসন এবং ১/১১ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক প্রিয় নেত্রীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদের আন্দোলন; যা বর্তমান সাংসদ সাগুপ্তা ইয়াসমিন এমিলি ভালো করে জানেন। বিশেষ করে, গত দশ বছরে লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী এলাকায় অভুতপুর্ব কাজ হবার পরও এই সুবিধাবাদী গ্রুপের কারনে সাগুপ্তা ইয়াসমিন এমিলির থেকে অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মিরা অভিমান করে দূরে ছিলেন ।

বছর তিনেক আগে লৌহজং কলেজ মাঠে , লৌহজং উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলনে উপস্থিত হবার সৌভাগ্য হয়েছিলো। সেদিন দ্বিতীয়বার প্রিন্সিপালের রোমে সাংসদ এমিলির সাথে আমার অনেকক্ষণ কথা হয় , তিনি আমাকে বললেন- আপনারা দুরে থাকলে সুযোগ সন্ধানীরা তো সুযোগ নিবেই । তিনি, আমাদের সহযোগিতা চাইলেন এবং কথা দিলেন, আগামীতে তিনি দলের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবেন । সেদিন, সম্মেলন উপলক্ষে কয়েক হাজার নেতা-কর্মি উপস্থিত ছিলেন ! অবাক হবার মতো কাণ্ড ! দলীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা কলেজের প্রিন্সিপালের রোমে বসে আছেন , এরমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছেলেরা মিছিল নিয়ে এসেই তাদের নেতাকে খুজছেন , রোধে-পুড়ে ঘামে-ভেজা বিধ্বস্ত চেহারা নিয়ে ভিড় ঠেলে, ভিতরে প্রবেশ করছে , কুশল বিনিময় মাঝে অনেকে পা ধরে সালাম করছে , মনে হলো সকলকে তিনি চিনেন এবং নাম জানেন । আবার কাউকে নাম ধরে ডেকে, আরেকজনের কথা জিজ্ঞেস করছেন । প্রিন্সিপালের রোমটা ইয়ং যোদ্ধাদের ঘামের গন্ধে, দম বন্ধ হবার উপক্রম কিন্তু সন্তানের স্নেহে নির্দ্বিধায় তিনি ওদের কাছে টেনে নিচ্ছেন । আমি, অবাক হয়ে এসব কর্মকান্ড দেখছি , আর ভাবছি – তিনি অনেকদুর এগিয়ে গেছেন । তিন পারবেন এবং পেরেছেন । তার সাথে মঞ্চে গেলাম , ছেলেরা তার নামে মুহুরমুহ শ্লোগান দিচ্ছে । বক্তাদের প্রায় সকলে একটি শব্দ বার বার উচ্চারন করছে, “ লৌহজং-টঙ্গিবাড়ীর মাটি ও মানুষের নেতা অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি … “ ভাবলাম , বিশেষণের সার্থকতা আছে । তিনি আসলেই এই অঞ্চলের মাটি ও মানুষের আপনজন হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা , নিজ দলের জনপ্রতিনিধিদের এই কথাটি বারবার বলেন , তাগিদ দেন ।

গতকাল লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত, লৌহজং বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে, “ উন্নয়নের বিজয় উৎসব” শিরোনামে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয় । এতে প্রধান অতিথি ছিলেন , সাংসদ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি । সভায় জনজোয়ারের ঢল দেখে ,মনে হয়েছে একমাত্র দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া মুন্সিগঞ্জে এতো বড় জনসমাগম ইতিপুর্বে দেখা যায়নি ! সম্প্রতি আমি দেশে গিয়ে এলাকার একটি চিত্র পেয়েছি । সব কিছু দেখে আমি নিশ্চিত যে , আমাদের এই আসনটি ধরে রাখতে হলে , সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির হবেন নৌকার নির্ভরযোগ্য মাঝি । লৌহজং – টঙ্গিবাড়ীর এই আসনটি বিএনপির অবস্থান বেশ শক্ত । আগামী নির্বাচন যেহেতু জাতির জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ন তাই , এখানে নতুন কাউকে এনে পরীক্ষা করা ঠিক হবে না । সাংসদ এমিলি দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে এই আসনে তার শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন , এই মুহুর্তে তার বিকল্প যে তৈরী হয়নি, তা আমি হলপ করে বলতে পারি । লৌহজং – টঙ্গিবাড়ীর এমন কোন বাড়ী নেই , যেখানে তার পদচারনা হয়নি ।এলাকার ধনী – দরিদ্রদের বিয়ে, সুন্নতে খাৎনা , হিন্দু সম্প্রদায়ের পুজা- পার্বণ ,এমন কি বেদে সম্প্রদায়ের সমস্যার সমাধানে তিনি দুই উপজেলার চষে বেড়ান । দেখলাম ,মহিলা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে তিনি আরো বেশি জনপ্রিয় ।

এখানে আরেকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম; ব্যাক্তি হিসাবে সজ্জন এবং আইনঙ্গনে সফল কিন্তু এলাকায় নতুন ! সরকারের এটর্নি জেনারেল হিসাবে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি, স্থানীয় আওয়ামী লীগকে পাশ কাটিয়ে বিএনপি , জাতীয় পার্টি লোকজন নিয়ে জন-সংযোগ করায় আওয়ামী লীগের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে । লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের নামে সাবেক বিএনপির সাধারন সম্পাদক ( পরবর্তীতে বিএনিপির সভাপতি )-কে দিয়ে সভার সভাপতিত্ব করায় , তিনি প্রচুর সমালোচিত হচ্ছেন । বিএনপির আমলে , উনাদের বিরুদ্ধে নৌকা এবং নৌকা গেইট ভাঙা, পুলিশের সহযোগিতায় হরতালে বাধা দেয়াসহ অনেক ঘটনার সাক্ষী স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেকে নেতা এখনো আছেন । মাহবুবে আলম সাহেবের পক্ষে গণ- সংযোগ করছেন, শাহ মোয়াজ্জেম এর নিবেদিত কর্মী , জাতীয় পার্টির আহবায়ক পরে বিএনপির সভাপতি , জাতীয় পার্টির এক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান । যারা, সব দলের নেতা হিসাবে এলাকায় পরিচিত । ব্যাক্তি হিসারে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবীদার হলেও এখানে তিনি দল ভারী করার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীদের সাথে নিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন , যা লৌহজং- টঙ্গিবাড়ির মুক্তিযুদ্ধে চেতনায় বিশ্বাসীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার করছে ।
গত দশ বছরে, জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোয়ায় লৌহজং- টঙ্গিবাড়িকে সুন্দর করে সাজিয়েছেন, সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি । স্কুল , কলেজ , মসজিদ , মন্দির, ক্লাব, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সব জায়গায় সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সমভাবে পদচারনা বিদ্যামান । জননেত্রী শেখ হাসিনার ছায়া হয়ে তিনি অত্র অঞ্চলের অভিবাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন ।

একটি প্রত্যক্ষ ঘটনা বলেই , আমার লিখা শেষ করছি – পুরান ঢাকার ইসলামপুর – পাটুয়াটূলি ব্যাবসায়ীদের মধ্যে সিংহভাগ ব্যাবসায়ী আমাদের বিক্রমপুরের , সুতরাং দুইদিন ঐসব মার্কেটে গিয়েছিলাম স্বজন, সুজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে দেখা করতে । যেহেতু আমি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত, তাই অনেকেই আগ্রহ করে এলাকার রাজনীতি সমন্ধে জানতে চান । এক্ষেত্রে একটা ব্যাপার বেশ লক্ষণীয়, তাহলো – বিএনপিপন্থি লোকজনগুলো এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাহেবের প্রতি বেশ আগ্রহী । তাদের জিজ্ঞেস করলাম, মাহবুব সাহেব মনোনয়ন পেলে , নৌকায় ভোট দিবেন কিনা! বলে – আমরা তো বিএনপি করি , আমরা নৌকায় ভোট দেব কেন । কথা প্রসঙ্গে জানালেন ,মাহবুব সাহেবের সভাগুলোতে অর্ধেক লোক নাকী তারাই যোগান দেন ! এক মাস দেশে থাকায় এই কথার সততা মিলেছে কারন মাহবুবে আলম ভাইয়ের আগে –পাছে যারা আছেন , হাতে গোন কিছু লোক বাদ দিলে মনে হবে, ওটা আওয়ামী লীগের সভা নয় , বিএনপি-জাতীয় পার্টির সভা হচ্ছে ।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষে , অনেক গুপ্ত সংস্থা দিয়ে জরিপ চালানো হয়েছে , কিন্তু দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসাবে এবং দেশে এক মাস অবস্থানকালে, বাস্তবতার নিরিখে আমার পর্যালোচনার সাথে সকল জরিপকারী সংস্থা একমত হবেন । জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এবং ভিসন ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে বিশ্বস্তযোদ্ধা হিসাবে সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি অত্র এলাকায় সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য । গতকাল ২০শে সেপ্টম্বর ২০১৮,লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় তা আবার প্রমান হয়েছে।

লেখক: সভাপতি,ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ ; সাবেক প্রতিষ্ঠা সভাপতি , লৌহজং উপজেলা ছাত্রলীগ ।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.