অবৈধ ড্রেজিংয়ে পদ্মায় তীব্র ভাঙন

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: মুন্সীগঞ্জের শিলই, দীঘিরপাড় ও কামারখাড়া ঘেঁষা পদ্মা নদীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ৪ মাসের মাথায় ৩টি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড়ের হাইয়ারপাড় গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় পদ্মা রুদ্রমূর্তি ধারণ করায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে হাইয়ারপাড় গ্রামের ২২ পরিবারের বসতভিটা ও আবাদি জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। অবৈধভাবে অপরিকল্পিত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পদ্মা রুদ্রমূর্তি ধারণ করায় ভাঙন শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এ অবস্থায় ভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কোনো উদ্যোগ না থাকায় হাইয়ারপাড় গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা গত সোমবার টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. হাসিনা আক্তারের সঙ্গে দেখা করে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্তদের ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি পাউবোকে অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৪টি ড্রেজার দিয়ে পদ্মার বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি উত্তোলনের পর তা বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে শিলই ইউপির শাহাদাত ব্যাপারি, দীঘিরপাড় ইউপির নিজাম খান ও কামারখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদারের লোকজন। প্রভাবশালী এই চক্রের নেতৃত্বে অবৈধভাবে পদ্মা নদীতে ড্রেজিং করে মাটি কাটার ফলে বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। অবৈধভাবে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পানি প্রবাহের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে এখন পদ্মার তীব্র স্রোত তীর ঘেঁষে প্রবাহিত হওয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টঙ্গিবাড়ীর দীঘিরপাড় ইউনিয়নের হাইয়ারপাড় গ্রামের সূর্যত আলী ব্যাপারী, ইদ্রিস হালদার, শাহআলম হালদার, ইকবাল হালদার, মিন্টু, সুমন, আবু বাক্কার, মহিউদ্দিনসহ ২২টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি পদ্মায় বিলীন হয়েছে। হাইয়ারপাড় গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত সূর্যত আলী ব্যাপারি ভয়ার্ত কণ্ঠে বলেন, রাক্ষুসী পদ্মা উত্তাল হয়ে ওঠায় এখন বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরবর্তী গ্রামে। ঢেউয়ের সঙ্গে প্রচণ্ড গতিবেগে ঘূর্ণায়মান স্রোতের শোঁ শোঁ শব্দে ভয়ে ঘুমাতে পারছে না নদী-তীরবর্তী মানুষ। ঘুমন্ত অবস্থায় কখন বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনার মতো তারাও পদ্মার ঘূর্ণায়মান স্রোতে তলিয়ে যান- এমন ভয়ে রাত জেগে থাকছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, তাদের মতো দীঘিরপাড় ইউনিয়নের হাইয়ারচর, মূলচর, দীঘিরপাড় বাজার, মিতারা গ্রাম ও কামারখাড়া ইউনিয়নের বড়াইল, বাঘবাড়ি, চৌসার, মাইজগাঁও, জুসিষার গ্রাম এবং সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের পূর্বরাখি গ্রামসহ আশপাশের একাধিক গ্রামের শত শত মানুষ এখন ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে দিনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, তিন বছর ধরে অব্যাহত ভাঙনে হাইয়ারপাড় গ্রামটি এখন পদ্মায় বিলীন হয়ে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে।

দীঘিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম হালদার জানান, কিছুদিন ধরে আবারও পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার ফলে এখন ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাম্মৎ হাসিনা আক্তার জানিয়েছেন, সরেজমিনে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্নিষ্টদের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পাওয়ার পরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

সমকাল

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.