ধলেশ্বরী পারাপারে ৬০০ ফুট বাঁশের সেতু!

নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়নের ১০ গ্রামের লোকজন ৬০০ ফুট দীর্ঘ এই বাঁশের সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ধলেশ্বরী নদী পার হয়। তাই এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেরচর গ্রামটি বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর কারণে মূল ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন। এ গ্রামের লোকজনের সদরে যাতায়াত করতে একমাত্র ভরসা ৬০০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সেতু। শুধু মধ্যেরচরবাসী নয়, আলীরটেক ইউনিয়নের কুঁড়ের পার, কোকের চর, আলীরটেক, রাধানগর, ছমিরনগর, তেলক্ষ্মীরা, গঞ্জকুমারিয়া, ডিক্রির চরসহ মোট ১০ গ্রামের লোকজনের চলাচলের একমাত্র পথ এটি।

মধ্যেরচর গ্রামে ধলেশ্বরী নদীর ওপর তিন বছর আগে তৈরি করা হয় ৬০০ ফুট দীর্ঘ এই বাঁশের সেতুটি। সেতুটি দিয়ে চলাচলে ইজারাদারকে প্রতিবার জনপ্রতি দুই টাকা করে টোল দিতে হয়। দীর্ঘ এই বাঁশের সেতু পারাপারে একদিকে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে অর্থেরও অপচয়। তাই এই ভোগান্তির অবসান চায় এলাকাবাসী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে তাদের দাবি, অচিরেই যেন এখানে একটি পাকা সেতু তৈরি করা হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সেতুটির পুরোটাই বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এটি যেমন লম্বা তেমনি উঁচুও। সেতুটি গোগনগর ইউনিয়নের গুদারাঘাট ও আলীরটেক ইউনিয়নের মধ্যেরচরকে সংযুক্ত করেছে। নদীবেষ্টিত মধ্যেরচরে বসবাস করছে প্রায় ৫০০ পরিবার। এখানে বসবাসকারীরা বেশির ভাগই কৃষিজীবী, খামারি ও দুধ বিক্রেতা। এখানে নেই কোনো বিদ্যালয় ও বিদ্যুৎ। গ্রামের শিক্ষার্থীরা এই বাঁশের সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পাশের ইউনিয়নের স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে।

এলাকাবাসী জানায়, আগে এ নদীতে সেতু ছিল না। তাই ট্রলার দিয়ে নদী পার হতে হতো। বছর তিনেক হয় সাঁকোটি তৈরি করা হয়। এ সাঁকো দিয়ে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে সবাইকে চলাচল করতে হচ্ছে। তবে এখানে একটি পাকা সেতু তৈরি করে দিলে সব ধরনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

দুধ বিক্রেতা ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘এত বড় দীর্ঘ বাঁশের সেতু দিয়ে চলাচল করা কষ্টকর। ভারী কোনো মালপত্র নিয়ে যাওয়া যায় না। তাই আমরা যারা বাজারে দুধ কিংবা শাকসবজি বিক্রি করি তারা সাঁকোটি ব্যবহার না করে ট্রলারে নদী পার হই।’

সাঁকোর ইজারাদার জাহাঙ্গীর হোসেন জনপ্রতি দুই টাকা করে টোল আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা তিন বছর আগে আট লাখ টাকা খরচ করে সাঁকোটি তৈরি করেছি। পরে উপজেলা থেকে ইজারা নিয়েছি। তবে পরাপারের জন্য শিক্ষার্থীদের কোনো টাকা দিতে হয় না।’

আলীরটেক ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রানা আহমেদ রবি বলেন, ‘এ সাঁকো দিয়ে আলীরটেক ইউনিয়নের ১০ গ্রাম ছাড়াও মুন্সীগঞ্জ জেলার বেতকা ও আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লোকজনও চলাচল করে। তাই এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেছি।’

এ ব্যাপারে আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এখানে সেতু তৈরির জন্য ইতিমধ্যে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।

কালের কন্ঠ

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.