মুন্সীগঞ্জ -১: মনোনয়ন দৌঁড়ে এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে রয়েছে একাধিক প্রাথী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জের নির্বাচনী প্রস্তুতী নিয়ে মুন্সীগঞ্জ 24 ডট কমে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ প্রকাশিত হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ -এক আসনের নির্বাচন ভাবনা

 

হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে বড় দল দুটির মধ্যে
জসীম উদ্দীন দেওয়ান: শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলা দুটো নিয়ে মুন্সীগঞ্জ এক আসন। মুন্সীগঞ্জের অন্য আসন দুটোর মতো এক সময় এটাও বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিলো। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনবারই এখানে জিতেছে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চোধুরী। তার পর বি চৌধুরী দল চ্যুত হবার পর উপ-নির্বাচনে মাহী বি চৌধুরী পরবর্তীতে নির্বাচিত হয়েছেন তাঁর বাবার গড়ানো দল বিকল্প ধারা বাংলাদেশ এর পক্ষে কুলার প্রতীক নিয়ে। আর ২০০৮ সালে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধূরীকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনকে ৪৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীনগর উপজেলা আওযামী লীগ সভাপতি বাবু সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। ২০১৪ সালে বিএনপি বিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এর বিদ্রোহী প্রার্থী শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয় সুকুমার রঞ্জন ঘোষ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ আওয়ামী লীগ টিকেট পেয়ে মুন্সীগঞ্জ -এক থেকে নির্বাচন করতে অনেক আগে থেকেই মাঠে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা; বদিউজ্জামান ভুঁইয়া ডাবলু, সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহামেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবীর এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ এর উপ কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সদস্য মাকসুদ আলম ডাবলূকে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ এবার নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিতে পারছেনা বলে তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। আওয়ামী লীগের মতো এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বি এনপির একাধিক প্রার্থী।

এবারও এই আসনে নির্বাচনী টিকেট চাইতে পারেন বিএনপির বর্ষিয়ান নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি এবং শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মমিন আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মো; আব্দুল্লাহ। আবার এই আসনে বিএনপির সাথে জোট বেধে নির্বাচন করার সম্ভবনা রয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরী অথবা তাঁর ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরী। আর জাতীয় পার্টি থেকে এই আসনে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন, দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মো সিরাজুল ইসলাম। তবে নির্বাচনে যতো দলই অংশ গ্রহণ করুকনা কেন মূল লড়াইটা হবে প্রধান দুটি দল অওয়ামীলীগ আর বিএনপির মধ্যে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনায় মাঠে দেখা না গেলেও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ।

নিজের দিকে পাল্লা ভারি করতে এবং মাঠ চাঙ্গা রাখতে প্রায় প্রতিদিইন কোননা কোন কর্মসূটি দিয়ে আসছেন, আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহামেদ. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, গোলাম সারোয়ার কবীর। জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব লুৎফর রহমান মনে করেন এবার নির্বাচন জাতীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।তাই আওয়ামী লীগের এই আসনগুলো ধরে রাখতে হলে মনোনয়নের ব্যাপারে কঠিন নজর দিতে হবে হাই কমান্ডকে। এদিকে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এই আসনে সরকার প্রচুর কাজ করেছ্,ে তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ হলে এখানকার মানুষ এই সরকারের দিকে আরো বেশি ঝুঁকে পড়বে। মুন্সীগঞ্জ এক আসনে মোট ২৮টি ইউনিয়ন রয়েছে। যেখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪৪০২৭৯ জন। এখানে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২২৪৫৭৮ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২১৫৭০১জন।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.