ঘূর্ণিঝড় ত্রামি’র তা-বে জাপান ক্ষতবিক্ষত

রাহমান মনি: মৌসুমি ঘূর্ণিঝড় (সুপার টাইফুন ২৪) ত্রামি’র তা-বে জাপান ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর জাপানের মূল ভূখণ্ড (তটরেখা) অকিনাওয়া দিয়ে শুরু করে দক্ষিণ, পশ্চিম, পূর্ব জাপান তছনছ করে হোক্কাইদো অর্থাৎ উত্তর জাপান আঘাত শেষে ১ অক্টোবর সন্ধ্যায় সমুদ্রে আছড়ে পড়ে। যাকে বাংলায় বলা যায় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া অর্থাৎ পুরো দেশব্যাপী এই তাণ্ডব চালায়।

৩ দিনব্যাপী এই ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ যেমন ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার ছিল, তেমনি এলাকা বিশেষ ১৩ মিটারেরও জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনার হুশিয়ারি দেওয়া হয় (সূত্র : জাপান মিডিয়া)। প্রায় ৫০ লাখ লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে সুপার টাইফুন ২৪ ত্রামি রাজধানী টোকিওতে আঘাত হানে। রাত ৮টার পর জাপান রেলওয়ে (পূর্ব জাপান) যাত্রীদের নিরাপত্তার বৃহৎ স্বার্থে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিকেল থেকেই এই ঘোষণা দেয়া হয় এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে ঘরের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয় আবহাওয়া বিভাগ থেকে এই সতর্কতা জারি করা হয়।

সুপার টাইফুন ২৪ ত্রামি সারা দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে ফেলে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম রেল যোগাযোগ। বুলেট ট্রেন খ্যাত শিনকান সেন কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। দেশব্যাপী সহস্রাধিক অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়।

পরের দিন সপ্তাহের শুরুতেই রাজধানীমুখী এবং আশপাশের অঞ্চলে যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা চরম পর্যায়ে পৌঁছে। ক্ষেত্রবিশেষ তিন ঘণ্টা বিলম্বে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছেন অনেকে। তবে, এই জন্য কর্তা ব্যক্তিদের কাছে কোনো কৈফিয়ত দিতে হয়নি। কারণ, বিষয়টি সবারই জানা। অনলাইনের মাধ্যমে সবাই সর্বশেষ খবর জেনে যান মোবাইল ব্যবস্থার কল্যাণে।

প্রায় দশ লাখ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হাসপাতালগুলো পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে কোনো কোনো এলাকাতে। কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় বিদ্যুতের অভাবে।

বন্দরনগরী ইয়োকোহামার উপকূলে নোঙর করা একটি মালবাহী জাহাজ টাইফুনের ঝড়োবাতাসে টোকিওর উপসাগরের একটি সাগর প্রতিরক্ষা বাঁধের ওপর উঠে যায়। জাহাজটিতে ক্যাপ্টেনসহ ১২ জন নাবিকের সকলেই আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন।

ভূমিধস, বন্যার সৃষ্টি সবই ছিল সুপার টাইফুন ২৪ এর তাণ্ডবের ধ্বংসের খাতায়। জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সর্বশেষ খবরে মৃতের সংখ্যা চার বলে জাপান পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়াও ২ জন নিখোঁজ এবং দেশব্যাপী কয়েকশত আহত হয়েছেন বলে জাপান পুলিশ জানিয়েছে। বহু লোককে আশ্রয় কেন্দ্রে স্থান নিতে হয়েছে।

কৃষি, মৎস্যসহ অন্যান্য ক্ষেত্রের ক্ষতির হিসাব এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

এরই মাঝে সুপার টাইফূন ২৫ এই সপ্তাহান্তে একই ভাবে আঘাত হানবে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘কং রে’।

আসন্ন কং রে টাইফুনটি সুপার টাইফুন ২৪ ত্রামি’র চেয়েও ভয়ঙ্কর এবং শক্তিশালী। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২৭০ কিলোমিটার হবে বলে জাপান আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে দিয়েছে। ৫ অক্টোবর টাইফুন কং রে অকিনাওয়া হয়ে ডান দিকে মোড় নিয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকবে। কং রে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জাপান তছনছ করবে বলে বারবার সতর্কবাণী দেয়া হচ্ছে। যদিও, টাইফুনটি জাপানের মূল ভূখণ্ডের বাহির দিয়ে যাবে তবুও এর তাণ্ডব ভোগ করতে হবে জাপানকে।

rahmanmoni@kym.biglobe.ne.jp
সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.